ওফবিট – পুরী, ভুবনেশ্বর কিংবা কোণারক—ওড়িশায় বেড়াতে গেলে এবার বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সিগারেট, বিড়ি, গুটখা, পানের মশলা থেকে শুরু করে তামাক ও নিকোটিনযুক্ত সব ধরনের পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করল ওড়িশা সরকার। রাজ্য জুড়ে এই সব পণ্যের উৎপাদন, মজুত, পরিবহণ, বিক্রি ও ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বিশেষ করে পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা পুরী শহরে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে—কোনওভাবেই গুটখা, খৈনি, জর্দা, পানের মশলা কিংবা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
এই কড়া সিদ্ধান্তের নেপথ্যে জনস্বাস্থ্য রক্ষাই মূল কারণ বলে জানিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ওড়িশায় গুটখা ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মুখ ও ওরাল ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের হার বৃদ্ধিতে, যা রাজ্য সরকারকে উদ্বিগ্ন করেছে।
ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিঙ্গা জানান, তামাকজাত দ্রব্য জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে রাজ্যকে তামাকমুক্ত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। আগেও ওড়িশায় তামাকজাত পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সব রকম ফাঁকফোকর বন্ধ করে এক ছাতার নীচে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্যাকেটজাত ও খোলা—দু’ধরনের পণ্যই পড়বে। এমনকি আলাদা আলাদা উপাদান বিক্রি করে পরে মিশিয়ে খাওয়ার মতো কৌশলও আর বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিয়ম কার্যকর করতে রাজ্য জুড়ে বিশেষ নজরদারি স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। আইন ভাঙলে জরিমানা থেকে শুরু করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট—পর্যটক হোন বা স্থানীয় বাসিন্দা, ওড়িশায় আর কোনওভাবেই তামাক ও নিকোটিনের জায়গা নেই। স্বাস্থ্যকর ও ক্যানসারমুক্ত ওড়িশা গড়তে সকলের সহযোগিতা চাইছে প্রশাসন।




















