ওসমান হাদির মৃত্যুতে ইউনুসের আবেগঘন শ্রদ্ধা, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়ল

ওসমান হাদির মৃত্যুতে ইউনুসের আবেগঘন শ্রদ্ধা, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়ল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ -;বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুতে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানালেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে ইউনুস বলেন, বাংলাদেশ জুড়ে এবং দেশের বাইরেও প্রবাসীদের মধ্যে সকলের নজর ছিল ওসমান হাদির খবরে। তাঁর কণ্ঠে আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইউনুসের কথায়, “প্রিয় ওসমান হাদি, তুমি আমাদের হৃদয়ের মধ্যেই বাস করছ। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তোমার অস্তিত্ব মুছে যাবে না।”
শনিবার ওসমান হাদির শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে ইউনুস আরও বলেন, তাঁরা বিদায় জানাতে আসেননি, বরং কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন। তাঁর দাবি, ওসমান হাদি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন। রাজনীতিতে হাদির ভূমিকা স্মরণ করে ইউনুস বলেন, কীভাবে বিনয় বজায় রেখে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা যায়, কীভাবে কাউকে আঘাত না করে নিজের মত প্রকাশ করা সম্ভব এবং কীভাবে সৌজন্য ও মর্যাদা বজায় রেখে রাজনৈতিক প্রচার চালানো যায়—এই শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন ওসমান হাদি। সেই আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন ইউনুস।
ইউনুস আরও জানান, নেতৃত্ব কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ মাথা উঁচু রেখেই চলবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের কাছে এই প্রতিশ্রুতি ওসমান হাদিই দিয়ে গিয়েছিলেন, আর এবার সেই অঙ্গীকার পূরণ করাই সরকারের লক্ষ্য।
এই আবহেই বাংলাদেশের বাইরে পশ্চিমবঙ্গেও ইস্যুটি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শিলিগুড়িতে বাঙিয়া হিন্দু মঞ্চের উদ্যোগে ভেনাস মোড় চত্বরে মশাল মিছিল হয়। ওই কর্মসূচিতে মহম্মদ ইউনুসের কুশপুতুল দাহ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার ও পরিকল্পিত নিপীড়ন চলছে।
বাঙিয়া হিন্দু মঞ্চের সভাপতি বিক্রমাদিত্য মণ্ডল সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিযোগ তোলেন, হিন্দু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক নিরীহ হিন্দু ব্যক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, হিন্দুদের উপর হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং চরমপন্থী শক্তির পরিকল্পিত আক্রমণের অংশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে শারীরিক নিগ্রহ, যৌন হিংসা, মন্দির ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ক্রমশ পাকিস্তান ও চিনের প্রভাবাধীন হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানপন্থী শক্তির মদতেই এই হিংসা ছড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় এবং অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে চাপে পড়েছে ইউনুস সরকার। ওসমান হাদির রাজনৈতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আবদুল্লাহ আল জাবের সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতারে সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে আনতে হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top