রাজ্য – রাজ্যে আসন্ন ভোটে প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। ধাপে ধাপে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করা। দুই দফায় ভোট হওয়ার কথা থাকায় প্রতিটি দফাতেই বিপুল বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
প্রতি দফায় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচনী নজরদারির জন্য সিইও দপ্তরে ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম থাকবে এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরেও কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও অশান্তি বা ভোট সংক্রান্ত অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক স্তরে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যে অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। প্রতি দফায় প্রতি জেলায় দু’জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কমিশনারেটে দু’জন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। ভোটকে কেন্দ্র করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো রুখতে ইন্টারনেট মাধ্যমেও নজরদারি চলবে। ইতিমধ্যেই গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১১২ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে নগদ অর্থও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বুথ স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে ভোটদানের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। ভোটকর্মী ও বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের ছবি সংরক্ষণ করা হবে—হার্ড কপি ও সফট কপি দুইভাবেই তথ্য রাখা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজন হলে আকাশপথে নজরদারি এবং কিছু সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। কোনও কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সেখানে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটাররা বাড়ি থেকে ভোট দিতে পারবেন। একই সুবিধা পাবেন ৪০ শতাংশের বেশি বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররা। এই সুবিধার জন্য আগাম ১২ডি ফর্ম পূরণ করে কমিশনকে জানাতে হবে। কমিশনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটগ্রহণই এবারের প্রধান লক্ষ্য।




















