উৎসব- নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে দেশজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। প্রবল শীত উপেক্ষা করে মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তায় নেমে আনন্দে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। পাহাড় থেকে সমতল—সর্বত্রই নতুন বছরকে বরণ করতে দেখা যায় জমজমাট ভিড়। তবে উৎসবের ভিড় সামলাতে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগেভাগেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।
দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা-সহ একাধিক মেট্রো শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দিল্লির কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট, বসন্ত বিহারের মতো এলাকায় রাতভর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক এসিপি ও অতিরিক্ত ডিসিপি সরেজমিনে নজরদারি চালান। শুধু পশ্চিম দিল্লি জেলাতেই প্রায় দেড় হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়।
নতুন বছরের আগের দিন দিল্লিতে চলতি মরসুমের শীতলতম রাত নেমে আসে। তাপমাত্রা ছিল ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে। তবুও ঠান্ডা থামাতে পারেনি উৎসবের উন্মাদনা। গুরুগ্রাম ও নয়ডাতেও রেস্তরাঁ, বাজার ও রাস্তায় উপচে পড়ে ভিড়।
মহারাষ্ট্রে নতুন বছরের রাতে রেস্তরাঁ, হোটেল, পাব ও বারগুলিকে ভোর ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। ভবিষ্যতেও বড় উৎসবের সময় এই ছাড় বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভ ও গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার মতো এলাকায় ভিড় সামলাতে বাড়তি পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মী মোতায়েন করা হয়।
বেঙ্গালুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০ হাজার পুলিশকর্মী নামানো হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। বিশেষ নজর দেওয়া হয় নারী নিরাপত্তা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর উপর।
হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিয়ে কড়া বার্তা দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া তাঁর সতর্কবার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়, এই ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। সেই বার্তা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
রাজস্থানেও নতুন বছরের রাতে ট্রাফিক চেকিং, নাকা তল্লাশি এবং মদ্যপ চালকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসব যেন কোনওভাবেই দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়, সেদিকেই প্রশাসনের মূল জোর।
এদিকে কলকাতায় ১ জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ ও একমুখী ব্যবস্থা চালু করা হয়। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জানুয়ারি বিকেল ৪টে থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। চৌরঙ্গি, এজেসি বোস রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, রেড রোড, মেয়ো রোড, শেক্সপিয়র সরণি, কুইনসওয়ে, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক রাস্তায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে।
পার্ক স্ট্রিট এলাকায় আগত গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। রাসেল স্ট্রিটের পূর্ব ও পশ্চিম দিক, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের পশ্চিম অংশ, উড স্ট্রিট এবং রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের কিছু অংশে গাড়ি পার্ক করা যায়। তবে পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট, মিডলটন স্ট্রিট, লিটল রাসেল স্ট্রিট, রয়েড স্ট্রিট-সহ একাধিক রাস্তায় পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
দেশজুড়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও নিরাপত্তার মেলবন্ধনেই শুরু হল ২০২৬।




















