কলকাতায় গীতাপাঠে প্যাটিস বিক্রেতার উপর হামলা, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রিয়াজুল

কলকাতায় গীতাপাঠে প্যাটিস বিক্রেতার উপর হামলা, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রিয়াজুল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



হুগলি – ২২ বছর ধরে কলকাতার নানা প্রান্তে মাথায় করে প্যাটিস বিক্রি করতেন হুগলির আরামবাগের প্যাটিস বিক্রেতা শেখ রিয়াজুল (৫০) ও তাঁর সহকারী মহম্মদ সালাউদ্দিন। তবে গত রবিবারের ঘটনার (Gitapath Pattis controversy) পর থেকে বদলে গেছে তাঁদের রোজনামচা। এমনকি লিওনেল মেসির (Messi in Kolkata) সফরকে ঘিরে শনিবার শহর উন্মাদনায় মেতে থাকা সত্ত্বেও রিয়াজুল কলকাতায় পা রাখতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “মেসিকে দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কলকাতামুখো। শনিবার শহরে গেলে বিক্রিবাটা হয়তো ভালই হত, কিন্তু গত রবিবারের আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে।”

ব্রিগেড ময়দানে রবিবার ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ভালো বিক্রির আশায় সেখানে প্যাটিস বিক্রি শুরু করেন রিয়াজুল। তবে গীতাপাঠ চলাকালীন নন-ভেজ খাবার বিক্রি নিয়েই আপত্তি ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে প্রায় তিন হাজার টাকার খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই রিয়াজুল কলকাতায় ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। মেসির কলকাতা সফরের দিনও তিনি শহরে আসেননি।

ঘটনার পর পুলিশ দুটি আলাদা অভিযোগ পায়। ছয়-সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মালপত্র নষ্টের ধারায় মামলা করা হয়। যদিও গ্রেফতারের পর অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পায়, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।

প্রতিবাদে প্যান্ডালের বাইরে থাকা ফুটপাথের প্যাটিস বিক্রেতারা ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, জীবিকার প্রশ্নে এ ধরনের হেনস্তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তীব্র। তৃণমূল নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে সামাজিক সহিষ্ণুতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে নিন্দা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় পাশের ফুটপাথে খাবার বিক্রি করা অপরাধ নয়, এবং পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তির পর এক বিজেপি নেতার পক্ষ থেকে তাঁদের ‘সম্মানিত’ করার খবর সামনে আসায় বিতর্ক আরও ঘনিয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন ওঠেছে—ধর্ম, রাজনীতি ও রুজি-রুটির সংঘাতে সমাজ কোন পথে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মাঝে আতঙ্কে রয়েছেন রিয়াজুলের পরিবার। তাঁদের কথায়, আপাতত রিয়াজুলের কলকাতায় না ফেরাই ভালো। জীবিকা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top