রাজ্য – ২০২৬ সালের জানুয়ারির শীতে কনকনে ঠান্ডা এবং হুড়মুড়িয়ে পারা পতনের কারণে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, কলকাতার ১২৭ বছরের শীতলতম দিনের রেকর্ড ভাঙতে পারে। জানুয়ারির শুরু থেকেই একাধিক জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের দুই জেলায় শৈত্যপ্রবাহ এবং শীতল দিনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আর আরও ছয় জেলায় শীতের দিনের অবস্থা বজায় রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত শীত এবং হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে।
বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় শৈত্যপ্রবাহ এবং শীতল দিনের পরিস্থিতি, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় শীতল দিনের পরিস্থিতি বিরাজ করবে। এই জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকবে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে আরও দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ বজায় থাকবে।
আগামী তিন দিনে ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় কুয়াশা থাকবে। কলকাতাসহ বাকি জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা আছে।
কলকাতার আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রার থেকে ৩.৭ ডিগ্রি কম। গতকালও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি। ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারিতে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল, যা এখনো রেকর্ড হিসেবে আছে। তবে এ বছরের পারা পতনের ধারা দেখে মনে হচ্ছে, সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা আছে। উত্তরবঙ্গেও পারাপতন চলছে এবং দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকায় তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঘন কুয়াশার কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ায় ভোররাত থেকে প্রায় ২০টি বিমান ওঠা-নামায় সমস্যা হচ্ছে।




















