রাজ্য – সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে উদ্বোধন হল ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অত্যাধুনিক কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। দোল ও হোলির মিলন উৎসবের মঞ্চ থেকেই কলকাতার সঙ্গে কল্যাণীর সংযোগকারী এই বিশ্বমানের সুপার হাইওয়ের সূচনা করেন তিনি। প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প কলকাতা ও কল্যাণীর মধ্যে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করবে বলে প্রশাসনের দাবি। দোল পূর্ণিমার আগেই রাজ্যবাসীর জন্য বড় উপহার হিসেবে এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু করা হল।
অনুষ্ঠানে এসআইআর আতঙ্কে মৃত ৬১ জন রাজ্যবাসীর পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর প্রাক দোল উৎসবে অংশ নিয়ে উপস্থিত মহিলা সদস্যদের সঙ্গে ডান্ডিয়া নাচে মেতে ওঠেন তিনি। মুখে হাসি, একেবারে হালকা মেজাজে ধরা দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মঞ্চে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিক ও উৎসবের অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ছবি আবারও সামনে আসে।
ডান্ডিয়া নাচের সময় মঞ্চে বেজে ওঠে হোলির জনপ্রিয় হিন্দি গান। সেই আবহেই যেন ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” রাত পোহালেই দোল উৎসব, তাই বাংলার মানুষকে আগাম শুভেচ্ছাও জানান তিনি। সকলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাত্মতার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই সুপার হাইওয়ে চালু হওয়ায় সোদপুর, ব্যারাকপুর, নৈহাটি, মধ্যমগ্রাম, বারাসাত ও আমডাঙার মতো যানজটপূর্ণ রাস্তাগুলি এড়িয়ে কলকাতা বিমানবন্দরের সঙ্গে বিকল্প সংযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি উদ্বোধন হয়েছে নিমতায় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে গামী ৩ লেনের ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার। কাপা থেকে বড় জাগুলি পর্যন্ত ৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের এলিভেটেড করিডোরও চালু হয়েছে। ৪ ও ৬ লেনের সিগন্যাল ফ্রি এই এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে ২১টি ফ্লাইওভার ও একাধিক আন্ডারপাস। নতুন রাস্তা চালু হওয়ায় মাত্র ৪০ মিনিটে কলকাতা থেকে কল্যাণী পৌঁছনো যাবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে কেবল একটি সড়ক নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতীক। আমরা চাই, রাজ্যবাসী প্রত্যেকে উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক।”



















