দেশ – কাশ্মীরের (Kashmir) বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কনসার্নড সিটিজেনস গ্রুপ (Concerned Citizen’s Group, CCG)। প্রাক্তন অর্থ ও বিদেশমন্ত্রী যশোবন্ত সিনহার (Yashwant Sinha, former Finance and Foreign Minister, Government of India) নেতৃত্বে এই নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি উপত্যকায় সফর করেন। দলের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরে ভারত বিরোধী মনোভাব দ্রুত মাথাচাড়া দিচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিসিজি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, পহেলগাম হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের পর কাশ্মীরে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে। তরুণদের মধ্যে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাক্তন মন্ত্রী যশোবন্ত সিনহা বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে এবং বিদেশে ভারতীয় দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে, যার কারণে প্রতিনিধি দলটিও স্থানীয় রাজনৈতিক দল এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
প্রতিনিধি দলের আলোচনায় স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, ‘ভারত-বিরোধী মনোভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের প্রতি জনসাধারণের মনোভাব বদলে গেছে। জঙ্গিবাদ ধীরে হলেও তরুণদের মধ্যে মৌলবাদী ধারণার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভবত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারের শক্তিগুলি প্রেরণার কাজ করছে।’
সিসিজি জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে আলোচনা করে রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছে। আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেবে বলে ঘোষণা করলেও স্থানীয় মানুষ তা দূরবর্তী স্বপ্ন মনে করছেন। নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা প্রদান করা হচ্ছে না, তা নিয়মিত প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিনিধি দলের বক্তব্য, শ্রীনগরের মানুষের মধ্যে ‘বিষণ্ণ নীরবতা’ লক্ষ্য করা গেছে। সুশীল সমাজের একাংশ খোলাখুলি মতামত ব্যক্ত করতে চাননি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘আমাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘৃণার ভিত্তিতে চাপা ক্রোধ ও হতাশা যে কোনও সময় অগ্ন্যুৎপাত করতে পারে, এবং এর জন্য শুধু একটি ট্রিগার যথেষ্ট।’ এই সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।




















