রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের বাংলার মাটিতে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। শনিবার একাধিক কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যে পৌঁছে পূর্বস্থলী, জঙ্গিপুর ও কুশমন্ডিতে সভা করার কথা ছিল তাঁর। পাশাপাশি শিলিগুড়িতে রোড শোও রয়েছে সূচিতে। দিনভর প্রচারের পর কুশমন্ডির খাগড়াকুড়ির ময়দানে সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
মঞ্চে উঠে ‘জয় মা কালী’ ও ‘জয় বাবা ভোলানাথ’ ধ্বনি দিয়ে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন তিনি। বক্তব্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে মোদী বলেন, মা-মাটি-মানুষের নামে ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলেও গত ১৫ বছরে রাজ্যে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তাঁর দাবি, দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং সিন্ডিকেট রাজই রাজ্যের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সভা থেকে তিনি স্লোগান তোলেন, “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব রাজ্যের বাইরের কোথাও নেই এবং অন্য রাজ্যে তাদের কার্যকলাপ গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ।
শুধু শাসকদলকে আক্রমণই নয়, সীমান্তে অনুপ্রবেশের বিষয়েও কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি আহ্বান জানান, বামফ্রন্ট ও তৃণমূলকে দীর্ঘদিন সুযোগ দেওয়ার পর এবার বিজেপিকে পাঁচ বছর সুযোগ দেওয়ার জন্য।
এদিন মহিলাদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মোদী। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের আর্থিক ভাতা দ্বিগুণ করা হবে এবং সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। নারী নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সমগ্র সভাজুড়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বিজেপির পক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর বার্তা দেন Narendra Modi। ভোটের আগে তাঁর এই আক্রমণাত্মক প্রচার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।



















