রাজ্য – এসআইআর এবং কেন্দ্রীয় বাজেটকে হাতিয়ার করে বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখেছিল কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা। বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সেই অনুযায়ী টাস্ক দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দুই হাতিয়ার ব্যবহার করে তৃণমূলকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে নিজেরাই বেকায়দায় পড়বেন, তা হয়ত শীর্ষ নেতৃত্ব কল্পনাও করেননি। এসআইআর বুমেরাং হয়ে বিজেপির পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে, তা শীর্ষ নেতৃত্ব হয়ত আঁচ করতে পারেননি।
বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব আশা করেছিলেন, গত বছরে বিহার নির্বাচনের আগে বাজেটে বাংলার জন্য বিরাট ঘোষণা করা হবে, যাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে নামা যাবে। কিন্তু কোথায় কি? উল্টো মোদি সরকার বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সেই আশা ভেস্তে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাজেটের গুণগান মানুষের দরবারে পৌঁছে দিতে হবে। এতে রাজ্য বিজেপির অনেক নেতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংঘাত দেখা দিয়েছে। কেউই কেন্দ্রের প্রদত্ত নির্দেশ মানতে রাজি হচ্ছেন না।
জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে বলা হয়েছে, বাংলার প্রতিটি জেলায় আলাদা কমিটি গড়তে হবে, যেখানে কেন্দ্রীয় বাজেটের গুণগান প্রচার করতে হবে। কমিটিতে থাকবেন জেলার পাঁচ-ছয়জন ‘বুদ্ধিজীবী’ নেতা। কিন্তু অধিকাংশ জেলার নেতৃত্ব এই নির্দেশ মানতে চাইছেন না। বাংলার জন্য বাজেটে তেমন বরাদ্দ না থাকায় মানুষের দরবারে কী মুখ দেখাবেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ভোটের জন্য ভিনরাজ্য থেকে লোক পাঠানোতেও নেতারা ক্ষুব্ধ। তাই কেন্দ্রের বাজেট-বন্দনার নির্দেশ মানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রের বাজেটে শিলিগুড়ি-বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর, ডানকুনি-সুরাত ফ্রেট করিডর ও দুর্গাপুর শিল্প করিডর ছাড়া কিছু নেই। এতে বাংলার সাধারণ মানুষের উপকার হবে না, তা বঙ্গ বিজেপি নেতারা ভালো বোঝেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলির কাছে এই প্রচারও কার্যকর হবে না। অনেক নেতা বলছেন, কেন্দ্রের বাজেট নিয়ে প্রচারে গেলে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়বেন, যার উত্তর তাদের কাছে নেই।




















