রাজ্য -;পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই অনুপস্থিত বাংলা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত বাংলার কোনও নেতাকে কেন্দ্রীয় দায়িত্বে জায়গা দেয়নি। এবার সেই তালিকায় রদবদল আসন্ন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—এই দফায় কি পরিস্থিতির বদল হবে, না কি আবারও উপেক্ষিতই থাকবে বাংলা।
বিজেপি সূত্রের খবর, মকর সংক্রান্তির পর দলের নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি নীতিন নবীন আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেই পর্ব শেষ হলেই তিনি নিজের টিম গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। চলতি জানুয়ারির মধ্যেই সেই টিম ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই তালিকায় বাংলার কোনও নেতার জায়গা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপির ধাক্কা খাওয়ার পর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজ্য নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই বাংলার কাউকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা না পাওয়ার অন্যতম কারণ। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের সময় বাংলার গুরুত্ব বাড়লেও বাকি সময়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই রাজ্যকে কার্যত উপেক্ষা করেই চলে।
এর বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে আসছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চিত্র। ২০১৯ সালে বাংলা থেকে বিজেপি ১৮টি লোকসভা আসন জেতার পরও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাংলার কোনও নেতাকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে আসন সংখ্যা কমে ১২-তে নেমে যাওয়ার পরও সেই ছবির কোনও পরিবর্তন হয়নি। পার্শ্ববর্তী অসম, বিহার ও ওড়িশা থেকে একাধিক পূর্ণমন্ত্রী থাকলেও বাংলার ভাগ্যে এসেছে শুধুমাত্র রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ। বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকাতেও একই ছবি স্পষ্ট।
তবে এবার প্রশ্ন উঠছে, এই ‘উপেক্ষা’র রাজনীতি কি কিছুটা হলেও বদলাবে? সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, প্রথম সারিতে না হলেও দ্বিতীয় সারির কোনও কেন্দ্রীয় দায়িত্বে বাংলার কাউকে জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
এই জল্পনার মধ্যেই বছরের প্রথম দিন কল্পতরু উৎসবে যোগ দিয়েছেন নীতিন নবীন। বৃহস্পতিবার তিনি পাহাড়গঞ্জের রামকৃষ্ণ মিশনে পুজো দেন এবং সেখানকার সন্ন্যাসীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। পুজোর পর তিনি বলেন, “রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা বিহার ও বাংলা-সহ সারা দেশের যুব সমাজের কাছে অসীম প্রেরণার উৎস।” বাংলার ভোটের দিকেই তাকিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির এই উপস্থিতি কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে জল্পনা।




















