কেন্দ্রের নতুন ওয়াক্‌ফ আইন মানতে বাধ্য নবান্ন, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পত্তির তথ্য আপলোডের নির্দেশ

কেন্দ্রের নতুন ওয়াক্‌ফ আইন মানতে বাধ্য নবান্ন, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পত্তির তথ্য আপলোডের নির্দেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – কেন্দ্রের নতুন ওয়াক্‌ফ সংশোধন আইন (Waqf Amendment Act 2025) মানতে প্রথমে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির তথ্য সেন্ট্রাল পোর্টালে আপলোড করতে রাজি হয়েছে। আদালতে আশানুরূপ স্বস্তি না মেলায় আইন মানা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ড. পি.বি. সালিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা শাসকদের চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে রাজ্যের সব ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির খতিয়ান ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ওয়াক্‌ফ বিল কেন্দ্রীয় সংসদে পাশ হওয়ার পর বাংলায় প্রতিবাদ দেখা দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তিনি রাজ্যে নতুন ওয়াক্‌ফ সংশোধন আইন কার্যকর হতে দেবেন না। গত এপ্রিল মাসেও তিনি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে বিলের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টে কোনও স্বস্তি না পাওয়া এবং সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যকে আইন মানতেই হচ্ছে।

এই আইন, অর্থাৎ উমিদ আইন (Ummed: Unified Waqf Management, Empowerment, Efficiency and Development Act) ৮ এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। আইনের 3B ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সব ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির তথ্য ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড বাধ্যতামূলক। সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫।

পশ্চিমবঙ্গে ৮২ হাজারের বেশি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি এবং ৮ হাজারেরও বেশি ওয়াক্‌ফ এস্টেট রয়েছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের পাঠানো নির্দেশিকায় মুতাওয়াল্লিদের ‘Maker’ হিসেবে তথ্য আপলোডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা শাসকদের পাঠানো চিঠিতে আট দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হয়েছে—মুতাওয়াল্লি, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক, কেবল অ-বিতর্কিত সম্পত্তির তথ্য আপলোড, প্রয়োজন হলে Facilitation Centre তৈরির নির্দেশ, জেলাস্তরে সচেতনতা বাড়ানো, দায়িত্ব বণ্টন, হেল্প ডেস্ক স্থাপন এবং প্রতিদিন ভিডিও কনফারেন্সে প্রশিক্ষণ—সবই দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, লক্ষ্য পূরণ করতে জেলা শাসকদের ব্যক্তিগত তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তবে সময়সীমা প্রায় ফুরিয়ে আসায় জেলাগুলিতে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হতে পারে বলেও প্রশাসনিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top