কেন্দ্রের বকেয়া, জিএসটি চাপ আর ঋণের বোঝা—ভোটের মুখে বাংলার অন্তর্বর্তী বাজেটে নজর সব মহলের

কেন্দ্রের বকেয়া, জিএসটি চাপ আর ঋণের বোঝা—ভোটের মুখে বাংলার অন্তর্বর্তী বাজেটে নজর সব মহলের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও বাংলায় এখনও চালু হয়নি ১০০ দিনের কাজ। তার মধ্যেই কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়ার অঙ্ক পৌঁছেছে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকায়, যা রাজ্য বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশের সমান। উপরন্তু জিএসটির নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষে এই খাতে ৪৯ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই আর্থিক চাপের মধ্যেই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পেশ হতে চলেছে রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট, যা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে কৌতূহল।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আর্থিক সংকট সামলে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে নবান্ন। বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় বাজেটকে জনমুখী ও প্রকল্পনির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঋণের বোঝা সামলে কীভাবে উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প চালু রাখা যায়, সেই রূপরেখাও অন্তর্বর্তী বাজেটে তুলে ধরা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দল বিজেপি ইতিমধ্যেই সমালোচনার জন্য প্রস্তুত। ভোটের আবহে বিরোধী চাপ সামলাতে জনহিতকর বাজেটেই জোর দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ফলে মানুষের হাতে নগদ অর্থ বেড়েছে, যার জেরে ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, এই কারণেই জিএসটি আদায় বড় ধাক্কা খায়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলায় জিএসটি আদায় হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি। অর্থাৎ সামান্য বৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা এখনও অনেক দূরে। কেন্দ্র যদি জিএসটি বাবদ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বকেয়া মেটায়, তবে চলতি আর্থিক বছরে মোট রাজস্ব আদায় ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের ৪৬ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে মনে করছে নবান্ন।
ভোটমুখী বাজেটে কিছু চমক থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়তি সুবিধা কিংবা সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে কোনও ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে। যদিও কী ধরনের চমক থাকবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে রাজ্যে ৯৪টি সামাজিক প্রকল্প চালাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, ফলে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজস্ব বৃদ্ধির দিক থেকে কিছু ইতিবাচক ছবি অবশ্য উঠে এসেছে। গত অর্থবর্ষের তুলনায় চলতি বছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত জমি ও বাড়ি বিক্রি বাবদ রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। এই খাতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আবগারি শুল্ক থেকেও রাজস্ব বৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে আবগারি বাবদ আয় ছিল ১৯ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, আর চলতি বছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩২২ কোটিতে। অর্থবর্ষ শেষে তা ২১ হাজার ৭০০ কোটি ছুঁতে পারে বলে অনুমান।
এছাড়া রাজ্যের আর্থিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ, পেট্রলিয়াম, কয়লা-সহ অন্যান্য পণ্যের শুল্ক থেকেও রাজস্ব বেড়েছে। এই সব খাতে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে আর্থিক চাপের মধ্যেও আয় বাড়ানোর পথ খুঁজে অন্তর্বর্তী বাজেটে কী দিশা দেখায় নবান্ন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top