রাজ্য – একের পর এক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর তা নিয়ে বারবার সুর চড়ায় রাজ্য সরকার। বর্তমানে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ-বিধায়ক ও নেতা-মন্ত্রীরা বারবার কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন।
তবে এবার রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনায় রাজ্য সরকার হকের ২০২ কোটি টাকা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কারণ কৃষিখাতেও অর্থ আটকে রাখতে চেয়েছিল নয়াদিল্লি। চলতি অর্থবর্ষে এই যোজনার অধীনে রাজ্যের পাওয়ার কথা ছিল ৪৪০ কোটি টাকা। প্রথম কিস্তির ৮৬.৪০ শতাংশ যথাযথভাবে খরচ করা হয়েছে এবং হিসাবসহ ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট রাজ্য সরকার জমা দিয়েছে। তারপরও দ্বিতীয় কিস্তির ২২০ কোটি টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার গড়িমসি করছিল।
এদিকে, এই আবহে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিস্তারিত হিসেবনিকেশ এবং আলোচনার পাশাপাশি টাকা আটকে রাখার চেষ্টা চিহ্নিত হয়। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং মন্ত্রকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ইস্যুতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মুখের উপর জবাব দেন। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রের ভূমিকা প্রশংসা করতে বাধ্য হন এবং চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় কিস্তি মেটানোর আশ্বাস দেন।
নবান্ন সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের অর্থে কৃষিক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ‘কৃষন্নতি’ নামে আরও একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা—৮৮.৭৫ কোটি—পাওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকার আশাবাদী। সরষে চাষ বৃদ্ধির উপরও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে। অল্পদিনের শীত সত্ত্বেও বাংলায় সরষে চাষে যথেষ্ট বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে বলে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। কৃষি দফতরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ২০২ কোটি টাকা রাজ্য সরকার লড়াই করে ছিনিয়ে আনল।




















