কোচবিহার – কয়েক দিন ধরেই চলছিল নানা জল্পনা ও দুর্নীতির অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত কোচবিহারের তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ঘোষ চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার সকালে সদর মহকুমা শাসকের বাড়িতে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন রবীন্দ্রনাথ। পরে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, অভিষেকের নির্দেশ মেনে এই পদত্যাগ করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। এক সময় তিনি জেলার দলীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদে বসেছিলেন। তাঁর মেয়াদে শহরের বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়, যা শহরবাসীর নজর কাড়ে।
দলের একাংশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংগঠনে রদবদল এনে নতুন প্রজন্মের নেতাদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুরসভার পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হবে কোচবিহার পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক সূত্রে বলা হচ্ছে, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ সাহার নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তবে দলীয় স্তরে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
সব মিলিয়ে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পদত্যাগ কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।




















