ইতিমধ্যে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। গত দু’দিন ধরে ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, রায়দিঘি, সাগরে মৎস্য দফতর থেকে আগাম সতর্কতা দিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে সুন্দরবনে সমস্ত ফেরিঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোন ফেরি চলাচল করবে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর-সহ জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর শুরু হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। শনিবার দুপুরে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য তড়িঘড়ি কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক শৌভিক চট্টোপাধ্যায় জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা , সুন্দরবন জেলার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, নামখানার বিডিও। ছিলেন ওই মহকুমার থানার আইসি ও ওসিরা। বৈঠকে ছিলেন মৎস্যজীবি সংগঠনের নেতৃত্ব। ঘূর্ণিঝড় আসার আগে সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলি থেকে কিভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে আনা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়।

মৎস্যজীবী সংগঠন গুলিকেও সর্তক করা হয়েছে। কোনভাবে ঝড়ের সময় কোন ট্রলার বা নৌকা সমুদ্রে বা নদীতে যেন না থাকে। কারন গত বছর নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে কয়েটি ট্রলার নদীতে থেকে যাওয়া। দূর্ঘটনার কবলে পড়ে বেশ কয়েকটি ট্রলার। ১০ জনের বেশী মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয় ট্রলার ডুবে। তবে গত ১৫ এপ্রিল থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে কোন ট্রলার নদী বা সমুদ্রে নেই। সব ট্রলার বন্দরগুলিতে নোঙর করা আছে।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী মঙ্গল, বুধবার নাগাদ এরাজ্যে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের পাশাপাশি প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বুলবুলের গতিপথ ধরে এই ঝড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। গত ২০০৯ সালে ২৫ মে আইলা আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবনে। ঠিক এগারো বছরের মাথায় মে মাসে সুন্দরবনে আবার দুর্যোগের ভ্রুকুটি। লকডাউনের মধ্যে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়ে ত্রস্থ গোটা সুন্দরবনবাসী।



















