খসড়া ভোটার তালিকায় পরিচয় বদল! মহম্মদ সেলিম ও তাঁর ছেলে ‘ব্রাহ্মণ অবস্থি’, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

খসড়া ভোটার তালিকায় পরিচয় বদল! মহম্মদ সেলিম ও তাঁর ছেলে ‘ব্রাহ্মণ অবস্থি’, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এমনিতেই উত্তাপ তুঙ্গে। কোথাও জীবিত মানুষ ভোটার তালিকায় ‘মৃত’, কোথাও আবার পরিচিত নামই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আবহেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ও প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ছেলে অতীশ আজিজের পরিচয়ই বদলে গিয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায়। মুসলিম পরিচয়ের বদলে তাঁদের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ‘ব্রাহ্মণ’ পদবী—‘অবস্থি’।

মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যায়, অতীশ আজিজের ‘লাস্ট নেম’ বাংলায় লেখা রয়েছে ‘অবস্থি’। শুধু তাই নয়, বাবার নামের পাশে আত্মীয়ের পরিচয়েও একই পদবী বসানো হয়েছে। অর্থাৎ, মহম্মদ সেলিমের নামের সঙ্গেও কার্যত যুক্ত হয়েছে ‘অবস্থি’। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অতীশ আজিজ। ফেসবুকে ভোটার তথ্যের স্ক্রিনশট পোস্ট করে তিনি লেখেন, “নির্বাচন কমিশন আমাকে ব্রাহ্মণ বানিয়ে দিয়েছে, আর আমার বাবাকেও।”

এই ভুলকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে সিপিআইএম। দলের নেতৃত্বের বক্তব্য, এটিকে নিছক টাইপিংয়ের ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অতীশ আজিজ সংবাদমাধ্যমে বলেন, তাঁর বাবা কয়েক দশক ধরে রাজনীতির পরিচিত মুখ। এমন একজনের ক্ষেত্রেই যদি এই ধরনের গরমিল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোটার তালিকার অবস্থা কী, তা সহজেই অনুমেয়। তাঁর মতে, এই ঘটনা গোটা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, অফিসিয়াল খসড়া তালিকায় আদতে এমন কোনও ভুল নেই। কমিশনের ব্যাখ্যা, বাংলায় অনুবাদ করে দেখার সময়েই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, গ্রাম বাংলার যেসব এলাকায় ভোটার রোল বাংলায় রয়েছে, সেখানে এই সমস্যা নেই। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে ভোটার রোল ইংরেজিতে থাকায় এমন ভুল হয়ে থাকতে পারে।

এই ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট নন মহম্মদ সেলিম। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়াকে নির্বাচন কমিশন হালকাভাবে নিয়েছে। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসআইআর চালানো হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক থেকে শুরু করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার—সকলেই এই প্রক্রিয়াকে কার্যত ‘প্রহসন’-এ পরিণত করেছেন বলে কটাক্ষ করেন সেলিম।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top