রাজ্য – রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলা খসড়া ভোটার তালিকার শুনানি পর্বে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তর ও তার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতা পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় আধা সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সিইও-সহ দপ্তরের কর্মকর্তারা ও নিযুক্ত কেন্দ্রীয় বিশেষ রোল অবজার্ভার, ১৭ জন রোল অবজার্ভারও শুনানি পর্বে জেলায় গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাবেন।
শুনানি শুরু হওয়ার আগে খসড়া তালিকায় একের পর এক ত্রুটি প্রকাশ পেয়েছে। চণ্ডীতলা, মাটিগাড়া, কোচবিহার দক্ষিণের বিধানসভা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় চার জন জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ দেখানোর অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার আরও তিন জনকে মৃত দেখানো হয়। পাশাপাশি, অসম থেকে এনআরসি নোটিস পাওয়া আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা অঞ্জলী শীলের নামও খসড়া তালিকায় ওঠেছে। ভোটার তালিকার এই ত্রুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ক্রমশ বাড়ছে।
আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে চলা শুনানি পর্বকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রান্তিক মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় রোল পর্যবেক্ষক সি মুরুগান কমিশনের কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশনের অবজার্ভাররা জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠান।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিতকুমার মিশ্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অনিল সুব্রমনিয়ামকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাঝপর্বে গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বর সিইও কার্যালয়ের সামনে কিছু বিএলও এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ঘেরাওয়ের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। কার্যালয়ের আধিকারিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি এড়াতে সিইও কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হোক।”
এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভ্যান চালক পিন্টু দাসকে খসড়া তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ও বাবা দু’জনেই ফর্ম ফিল-আপ করেছিলাম। বাবার নাম খসড়া তালিকায় আছে, কিন্তু আমার নামের পাশে মৃত লেখা হয়েছে। কীভাবে এমন হলো, বোঝা যাচ্ছে না।”
চণ্ডীতলা বিধানসভার ডানকুনির পর উত্তরপাড়া বিধানসভার কন্নগরে শ্যামল খাটুয়ার নামও ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। শ্যামল জানান, “বিএলও-র দেওয়া এনুমারেশন ফর্ম যথাযথ নথি দিয়ে জমা দিয়েছিলাম। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর জানতে পারি, আমাকে মৃত ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।”




















