খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে শুনানি পর্ব শুরু, রাজ্যে চালু হল অপশন

খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে শুনানি পর্ব শুরু, রাজ্যে চালু হল অপশন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শনিবার থেকেই শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত সমস্যায় তা পিছিয়ে গিয়েছিল। শুনানির অপশন চালু না থাকায় সমস্যায় পড়েন বিএলও ও ইআরও-রা। সেই সময় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল নিজেই জানিয়েছিলেন, প্রক্রিয়া শুরুর কাজ চলছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখন শুনানি পর্বের অপশন চালু হয়ে গিয়েছে এবং শীঘ্রই সংশ্লিষ্টদের নোটিস পাঠানো শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিস পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের অন্তত সাত দিনের সময় দেওয়া হবে। শুনানি পর্বে সিসিটিভি বসানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আপাতত সিসিটিভি না থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, প্রথম শুনানি ২৫ ডিসেম্বরের আগে হচ্ছে না।
খসড়া ভোটার তালিকায় রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ ‘নো ম্যাপিং’ জোনে রয়েছেন। যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের কোনও যোগসূত্র দেখাতে পারেননি, তাঁদের সকলকেই শুনানির জন্য ডাকা হবে। এ ছাড়াও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বা সেই তালিকায় বাবা-মা, দাদু-দিদা কিংবা পরিবারের কারও নাম নেই—এমন প্রায় ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০ জন ভোটারের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, এমন ১৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ জন ভোটারকেও এই তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাঁদের বয়স এখন ৪৫ বছর, তাঁদের ২০০২ সালে বয়স ছিল প্রায় ২২ বছর। সেই হিসেবে তাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকার কথা। কিন্তু যাঁদের নাম সেই তালিকায় বা ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও ভোটার লিস্টে ছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রেই কমিশনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও বাবার নাম সংক্রান্ত অসঙ্গতি রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬। বাবার বয়স নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে ১৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের ক্ষেত্রে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হল, প্রায় ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৮১ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। আবার ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৫ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর। ঠাকুরদার সঙ্গে বয়সের অসঙ্গতি রয়েছে ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৮১১ জনের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি, লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল তথ্য ধরা পড়েছে প্রায় ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪০ জন ভোটারের ক্ষেত্রে। এই সমস্ত ভোটারকেই শুনানিতে হাজির হতে হবে।
চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন পর্বে শুনানি প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারির প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৪ হাজার মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এই সংখ্যা ৩,৩০০-র কাছাকাছি থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ‘বি’ বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মীদেরই মাইক্রো রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। কেন্দ্রীয় PSU, জাতীয়কৃত ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় দফতরের কর্মীদের মধ্য থেকেই এই অবজার্ভার বাছাই করা হবে।
মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব হবে শুনানি পর্বের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা। কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও-কে জানাবেন এবং প্রয়োজনে ডিইও-র নজরেও বিষয়টি আনবেন। কমিশনের আশা, শনিবারের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top