দেশ – অচল পয়সা— অথচ খাতায় কলমে সচল। ৫০ পয়সা বা আধুলি এখন এমনই এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ— সকলেরই ঢেঁকি গেলার দশা। হাটে-বাজারে তা প্রায় অগ্রহণযোগ্য। ব্যাঙ্কে জমা দিতে গেলেও অনীহা দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অবসরের পথেই ৫০ পয়সা?
দেশের নিয়ন্ত্রক ব্যাঙ্ক ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক অবশ্য এখনও জানাচ্ছে, ৫০ পয়সা বৈধ মুদ্রা। অর্থাৎ আইনত তা দিয়ে লেনদেন করা যাবে, ফেরানোও যাবে না। কিন্তু বাস্তবে বাজারে গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের কথায়, কোনও মুদ্রা বাতিল করা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। সাধারণত দু’টি কারণে মুদ্রা প্রত্যাহার করা হয়—
১) মুদ্রার ফেস ভ্যালু কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়লে।
২) বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে।
বর্তমানে দ্বিতীয় কারণটি বড় হয়ে উঠেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। মুদ্রাস্ফীতি ও মনিটারি পলিসি সংক্রান্ত কমিটিও বিষয়টি খতিয়ে দেখে। তবে ৫০ পয়সার চাহিদা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য কেন্দ্রের কাছে কবে পাঠানো হয়েছে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আরও একটি বাস্তব সমস্যা রয়েছে। কোনও মুদ্রা বাতিল হলে তা ব্যাঙ্কে জমা নেওয়ার পাশাপাশি কয়েন ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবস্থাও করতে হয়। কিন্তু ৫০ পয়সার জন্য আলাদা ভেন্ডিং মেশিন কার্যত নেই। উপরন্তু, মুম্বই, কলকাতার তারাতলা, হায়দরাবাদ ও নয়ডার টাঁকশালে গত প্রায় ১৫ বছরে ৫০ পয়সার নতুন কয়েন তৈরি হয়নি। এতে স্পষ্ট, সরকারও ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমার বিষয়টি মেনে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জুন মাস থেকে ২৫ পয়সার কয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় নিয়ম মেনে তা ব্যাঙ্কে জমা নেওয়া হয়েছিল। পরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্তও দেশ দেখেছে। যদিও উচ্চ মূল্যমানের নোটের ক্ষেত্রে আয়কর ও আইনি জটিলতা থাকলেও ৫০ পয়সার মতো নিম্ন মূল্যমানের কয়েনে তেমন সমস্যা নেই।
ব্যাঙ্কিং অফিসারদের সংগঠনের নেতা সঞ্জয় দাসের মতে, বর্তমানে ৫০ পয়সার ব্যবহার প্রায় বন্ধের মুখে। বিপুল পরিমাণে গ্রাহকরা তা জমা দিতে আসছেন, এমন খবরও নেই। কর্মীসংখ্যা কম থাকায় ব্যাঙ্কে কয়েন গোনার সমস্যাও একটি বাস্তব বিষয়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “৫০ পয়সা এখন দেশের সবচেয়ে কম মূল্যমানের মুদ্রা। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে এর ভূমিকা খুবই সীমিত। তবে আমরা সচেতনতা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে আইনত বৈধ এই মুদ্রার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়।”
সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে সচল হলেও বাস্তবে প্রায় অচল ৫০ পয়সা— সময়ই বলবে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নেয় কি না।




















