খাস কলকাতায় কালীমায়ের নামে বুজরুকির অভিযোগ, ভক্তসমাগম সামলাতে নামাতে হল র‍্যাফ

খাস কলকাতায় কালীমায়ের নামে বুজরুকির অভিযোগ, ভক্তসমাগম সামলাতে নামাতে হল র‍্যাফ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – খাস কলকাতায় ফের কালীমায়ের নামকে সামনে রেখে বুজরুকি ছড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। দেবী মা নির্দিষ্ট ভক্তের কাছে সোনা-গয়না বা বিশেষ বস্ত্র চাইছেন—এই ধরনের ‘দাবি’ তুলে ধরে ভক্তদের ঠকানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে নামাতে হয় র‍্যাফ, এমনকি লাঠিচার্জও করতে হয় পুলিশকে।
অভিযোগ, ভক্তির সুযোগ নিয়ে সাধারণ ভক্তদের বোঝানো হচ্ছে, মায়ের নাকি এই গয়না বা সেই বেনারসি বিশেষভাবে পছন্দ। সেই কথা বলেই কার্যত ভক্তদের কাছ থেকে গয়না বা দামি বস্ত্র কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের ‘পছন্দ’-এর নাম করে নেওয়া হচ্ছে বেনারসি শাড়ি। এই ধরনের গুজব মূলত ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ বা কালীঘাটের মতো প্রাচীন ও স্বীকৃত তীর্থক্ষেত্রে তো দেবীর নামে এইভাবে সোনা বা বেনারসি চেয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সেখানে ভক্তির ভিত্তি বিশ্বাসেই দৃঢ় থাকে। তা হলে কেন এখানে কালীমায়ের নামে এই ধরনের রটনা ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে—তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শনিবার রটন্তী চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে এই বুজরুকির ভিড় মারাত্মক আকার নেয়। কয়েকদিন আগেই উত্তর কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটে শ্যামাসুন্দরী কালীকে ঘিরে একই ধরনের রটনা ছড়ায়। অভিযোগ, সেখানে প্রচার করা হয়েছিল যে এই মন্দিরে নাকি কালীমায়ের জীবন্তরূপ বিরাজ করছেন এবং তিনি সরাসরি ভক্তদের মনের কথা শুনছেন।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায় একই অভিযোগ সামনে এল। মন্দিরের নাম করে বিভিন্ন জনের কাছে একাধিকবার সোনা-দানা চাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ইউটিউবারদের ভিড়ে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী শুভচিন্তকদের প্রতিবাদে সেই জায়গা থেকে কার্যকলাপ সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শ্যামাসুন্দরী কালীকে কসবায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়। আর প্রায় তিন মাস আগে আমহার্স্ট স্ট্রিট সংলগ্ন কার্তিক বসু স্ট্রিটে একটি বাড়ি কিনে সেখানে শ্যামাসুন্দরী কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সেখান থেকেই ফের পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে ভক্তদের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আদায়ের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top