রাজ্য – ভোটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’-কেই অস্ত্র করে রাজ্যের শাসক দলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সিউড়িতে দলীয় সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভোটের পর যে ‘খেলা’ হয়, তা বাংলার মানুষ ভালোভাবেই জানে। এবার সেই খেলায় বিজেপিও মাঠে নামবে এবং একতরফা কিছুই হতে দেবে না।
মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট—প্রতিবারই ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, এতদিন একপেশে খেলা হয়েছে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলাবে। এবার দু’দলই মাঠে নামবে এবং সুযোগ বুঝে বিজেপি গোল করে দেবে বলে দাবি করেন তিনি।
ফুটবলের উপমায় মোড়া বক্তব্যে মিঠুন তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেই উল্টে দিতে চেয়েছেন। তাঁর কটাক্ষ, এক টিম নিয়ে কখনও খেলা হয় না। এবার দু’পক্ষই খেলবে এবং ঠিক সময়ে পেনাল্টিতে বল বসিয়ে গোল করে দেবে বিজেপি। এই মন্তব্যে সভামঞ্চে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতার জল্পনা নিয়েও মুখ খোলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির কোনও ‘সেটিং’ নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, দশভূজার মতো গোলকিপার হয়ে দাঁড়ালেও পায়ের ফাঁক দিয়েই গোল করে দেবে বিজেপি।
এদিনের সভায় আইপ্যাক ও ইডি অভিযান সংক্রান্ত বিতর্কও উঠে আসে মিঠুনের বক্তব্যে। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার দিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং তাঁর হাতে থাকা একটি সবুজ ফাইল নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন করে আগুন ঢালেন বিজেপি নেতা। তৃণমূলের দাবি, ইডি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী তথ্য হাতাতে এসেছিল, কিন্তু মিঠুনের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মিঠুন চক্রবর্তীর অভিযোগ, ওই সবুজ ফাইলে কয়লা, বালি-সহ বিভিন্ন দুর্নীতির টাকার হিসেব ছিল। কে কাকে কত টাকা দিয়েছে বা নিয়েছে, সেই তথ্য লুকোতেই মুখ্যমন্ত্রী ফাইলটি সঙ্গে নিয়ে যান বলে তাঁর দাবি। এমনকি ওই ফাইলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা অভারতীয়দের তালিকাও থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য রাজনীতিতে ততই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের সুর চড়ছে। সিউড়ির সভা থেকে মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল, আসন্ন নির্বাচন শুধু স্লোগানের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাজনৈতিক ময়দানে সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে।




















