দক্ষিন 24 পরগণা – গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক দিনের মধ্যেই ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ২ নম্বর স্নানঘাট সংলগ্ন এলাকায় একাধিক অস্থায়ী ছাউনি আগুনে পুড়ে কার্যত ছাই হয়ে যায়। ঘটনায় পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, সংবাদমাধ্যম এবং বজরং পরিষদের শিবির ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে একটি ছাউনিতে আগুন দেখা গেলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা পাশের প্লাস্টিক ও বাঁশের তৈরি অন্যান্য ছাউনিতে ছড়িয়ে পড়ে। ছাউনিগুলিতে সহজে দাহ্য নানা উপকরণ থাকায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই বড় এলাকা জুড়ে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ এই আগুনে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। দুটি ফায়ার ইঞ্জিনের পাশাপাশি পাঁচটি ফায়ার ফাইটিং বাইক পাঠানো হয়। আধ ঘণ্টারও কম সময়ের চেষ্টায় দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে একাধিক অস্থায়ী ছাউনি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ঘটনার পর সাগরের বিডিও কানাইয়াকুমার রায়, গঙ্গাসাগর পোস্টাল থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান নেন। প্রশাসনের তরফে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এই ছাউনিগুলি পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হত না। গঙ্গাসাগর মেলায় প্রশাসনিক কাজে যুক্ত কর্মী ও আধিকারিক, পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, সংবাদমাধ্যম এবং বজরং পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রতিবছরই এই এলাকায় অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়। বজরং পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরাই নিখোঁজদের উদ্ধারকাজ এবং খাবার সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
মেলা উদ্বোধনের ঠিক পরেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে। বিপুল জনসমাগমের এই মেলায় অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, নতুন বছরের শুরুতেই গঙ্গাসাগরকে ঘিরে বড় প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর চার লেনের নতুন সেতুর শিলান্যাস করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে আধুনিক ‘এক্সট্রা ডোজ কেবল স্টেইড ব্রিজ’-এর আদলে তৈরি এই সেতু। নদীর উপর প্রায় তিন কিলোমিটার বিস্তৃত থাকবে এর মূল অংশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ২০ শতাংশও শীঘ্রই শেষ হবে। প্রকল্পের ভূকম্পন পরীক্ষা করেছে আইআইটি গুয়াহাটি এবং উইন্ড টানেল টেস্ট করেছেন আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞরা। মাটির বিশেষ পরীক্ষাও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।




















