রাজ্য – জেলা সফরে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সর্বত্র এসআইআর সচেতনতায় জোর দিচ্ছেন—নাগরিকদের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই বার্তাই দিচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নদিয়ায় সভা সেরে কলকাতায় ফিরেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে এই জরুরি বৈঠক বসবে সোমবার বিকেলে। ডিসেম্বর শেষ হলেই শুরু হবে নতুন বছর, আর ২০২৬ সালে শুরু হবে গঙ্গাসাগর মেলা—তাই প্রস্তুতি নিয়ে কোনও শিথিলতা রাখতে চান না মুখ্যমন্ত্রী।
তাছাড়া ২০২৬ সালে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের আগেই শুরু হবে গঙ্গাসাগর মেলা, ফলে কোনও অঘটন যেন না ঘটে সেই জন্যই নবান্নে বৃহৎ প্রস্তুতি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ সামনে আসার পর এ ধরনের পরিস্থিতি যেন বাংলায় না ঘটে, সেই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নিচ্ছে সরকার। ভোটের আগে কোনও ভুল হলে বিরোধী দল বিজেপি তীব্র আক্রমণ চালাতে পারে—এই কারণেও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, এ বছর মহাকুম্ভ না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় অতিরিক্ত পুণ্যার্থী ভিড়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই জল, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন থেকে শুরু করে সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই আগাম ব্যবস্থা নিতে চাইছে নবান্ন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সেচ দফতর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া现场 পরিদর্শন সেরে রিপোর্টও তৈরি করেছেন। সেই রিপোর্ট সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে জমা দেবেন তিনি। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বৈঠকে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন একাধিক মন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবরা। বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী জানাবেন তিনি কবে নিজে সরেজমিনে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যাবেন। পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রী ও বিধায়ককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—মানস ভুঁইয়া, অরূপ বিশ্বাস, বঙ্কিম হাজরা এবং স্থানীয় সাংসদ বাপি হালদারের নাম আলোচনায় রয়েছে। মেলা চলাকালীন একাধিক অফিসারকে মাঠে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।




















