কলকাতা – সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই দলের অন্দরে চলতে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কঠোর অবস্থান নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে পশ্চিম বর্ধমান ও কৃষ্ণনগরের তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন— ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে, তবে দলের প্রয়োজনে দুই পক্ষকেই সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, কৃষ্ণনগর এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বিবাদ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ মানুষের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষত কৃষ্ণনগর ও আসানসোল-দুর্গাপুরের মতো এলাকায় এই দ্বন্দ্ব প্রায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যা সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক শিরোনাম হয়েছে। এমনকি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে জেলার একাংশ বিধায়ক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের কঠোর বার্তা দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে অভিষেক পশ্চিম বর্ধমানের নেতাদের ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিধানসভা নির্বাচনে জেলার নয়টি আসনেই জয় নিশ্চিত করতে হবে। ২০২১ সালে বিজেপি দুর্গাপুর পশ্চিম, আসানসোল দক্ষিণ এবং কুলটি— এই তিনটি আসনে জিতেছিল। এবার এই আসনগুলো পুনরুদ্ধার করাই তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য।
তবে বৈঠক শেষে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, অভিষেক সবার উদ্দেশে একসঙ্গে মাঠে নেমে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষ্ণনগরের নেতাদেরও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাবে, অভিষেকের এই কড়া অবস্থান ও ঐক্যের ডাক দলের ভেতরের কোন্দল কতটা প্রশমিত করতে পারে।



















