গ্রিনল্যান্ড–পেঙ্গুইন বিতর্কে ফের ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের AI ছবিতে নেটদুনিয়ার ‘রিয়ালিটি চেক’

গ্রিনল্যান্ড–পেঙ্গুইন বিতর্কে ফের ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের AI ছবিতে নেটদুনিয়ার ‘রিয়ালিটি চেক’

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। ইউরোপের উপর শুল্ক চাপানোর হুমকি আপাতত স্থগিত থাকলেও, আর্কটিক অঞ্চলের এই ভূখণ্ড ঘিরে তাঁর রাজনৈতিক ও কৌশলগত মনোযোগ যে এখনও অটুট, তা ফের একবার স্পষ্ট করল হোয়াইট হাউস। শনিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ওই AI-তৈরি ছবিতে দেখা যায়, ৭৯ বছরের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পেঙ্গুইনের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। ছবিটির সঙ্গে লেখা ছিল—“Embrace the Penguin”। কিন্তু এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও বিদ্রুপ। কারণ, বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডে পেঙ্গুইনের কোনও অস্তিত্বই নেই।
ভূগোল অনুযায়ী, পেঙ্গুইন কেবলমাত্র দক্ষিণ গোলার্ধের প্রাণী। অ্যান্টার্কটিকা ও তার আশপাশের এলাকাতেই এদের দেখা যায়। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড অবস্থিত উত্তর গোলার্ধে। এই মৌলিক তথ্য উপেক্ষা করেই এমন একটি ছবি পোস্ট করায় হোয়াইট হাউসকে কার্যত ‘রিয়ালিটি চেক’ দেয় নেটদুনিয়া।
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ অসংখ্য ব্যবহারকারী এই পোস্টের জবাবে নিজেদের তৈরি AI-চিত্র শেয়ার করেন। কোথাও দেখা যায়, ট্রাম্পকে অ্যান্টার্কটিকায় দাঁড়িয়ে থাকতে, আবার কোথাও তাঁকে পেঙ্গুইনকে ভূগোল শেখাতে। ব্যঙ্গ ও কৌতুকেই ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া।
তবে এই হাস্যরসের আড়ালেও রয়েছে গুরুতর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেনমার্কের অধীনস্থ এই আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিলেন। তার জেরে ডেনমার্ক ও ইউরোপের একাধিক মিত্র দেশ গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন ট্রাম্প ইউরোপের সাতটি দেশ এবং ব্রিটেনের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সেই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এমন একটি কাঠামো শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে, যা ইউরোপ ও আমেরিকা—উভয়ের স্বার্থেই উপযোগী হবে।
সব মিলিয়ে, পেঙ্গুইনের ভুল ছবি হয়তো মুহূর্তের হাস্যরস এনে দিয়েছে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত আগ্রহ যে এখনও প্রবল, তা হোয়াইট হাউসের এই বিতর্কিত পোস্ট আবারও স্পষ্ট করে দিল।
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন ট্রাম্প। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিনল্যান্ডের বরফে দাঁড়িয়ে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করছেন। ছবিটির পাশে লেখা ছিল—“GREENLAND – US TERRITORY, EST. 2026”।
এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একই দিনে ট্রাম্প আরও একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ওভাল অফিসে বসে থাকা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের পেছনে একটি বদলে দেওয়া মানচিত্র দেখা যায়। সেই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top