দিল্লি – শীত পড়তেই ফের চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন দিল্লি ও লাগোয়া ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ভোরে ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার আস্তরণে ঢেকে যায় গোটা রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকা। গাজিয়াবাদ, নয়ডা সহ একাধিক অঞ্চলে দৃশ্যমানতা কার্যত শূন্যে নেমে আসে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ভোরের দিকে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সকাল ৮টায় আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়, খালি চোখে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫০ মিটার।
এই প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে বড়সড় প্রভাব পড়ে বিমান চলাচলে। খুব ভোরের দিকে প্রায় ২০০টি উড়ান দেরিতে ছাড়ে এবং বাতিল করতে হয় অন্তত ১০টি উড়ান। কুয়াশার পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রাও পৌঁছেছে ভয়াবহ স্তরে। সকাল ৮টার সময় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৪। এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সমীর অ্যাপ।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন অর্থাৎ অন্তত ক্রিসমাস পর্যন্ত দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বাতাস ভারী থাকবে। এর ফলে ঘন ধোঁয়াশা ও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিল্লির বায়ুমান ‘খুব খারাপ’ স্তরেই থাকার সম্ভাবনা। ২৫ ডিসেম্বরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ স্তরে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুধু দিল্লিই নয়, ঘন কুয়াশার কবলে পড়তে চলেছে পার্শ্ববর্তী পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশও। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও রাজস্থানেও কুয়াশার দাপট থেকে আপাতত মুক্তির কোনও সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে কাশ্মীর, লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশের কিছু অংশে তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়েই শীতের দাপট আরও বাড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




















