কলকাতা – শীতের রাতে নিশ্চিন্ত ঘুমের মধ্যেই নেমে এল সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত। বছর শুরুর প্রথম রবিবার গভীর রাতে কলকাতার পার্কসার্কাস এলাকায় ভেঙে পড়ল একটি পুরনো বাড়ির চাঙর। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বছর পঁচাশির এক বৃদ্ধা। আহত হয়েছেন এক শিশু-সহ বাড়ির আরও তিন সদস্য। তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পার্কসার্কাস লোহাপুলের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ সামসুল হুদা রোডের ৪৬/এইচ/ই নম্বর একটি জরাজীর্ণ তিনতলা বাড়ির একতলার অংশে আচমকা চাঙর ভেঙে পড়ে। ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন রাবিয়া খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গভীর রাতে সকলেই যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ছাদের একাংশ ধসে পড়ে।
চাঙরের আঘাতে গুরুতর জখম হন বাড়ির প্রায় সব সদস্য। তাঁদের তড়িঘড়ি ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ৬১ বছরের রাবিয়া খাতুনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছিল। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ বছরের আয়েষা খাতুন, ১৬ বছরের উমর ওরফে দানিশ আলম এবং ৫৫ বছরের ওয়াহিদ আবদুল। চিকিৎসকদের মতে, শিশু আয়েষার আঘাত তুলনামূলকভাবে সামান্য।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতসকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। বাড়ির মালিককে একাধিকবার মেরামতির জন্য সতর্ক করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই অবহেলার ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর দাবি। স্থানীয় বাসিন্দারাও একই অভিযোগ তুলেছেন।
এই ঘটনার পর ফের কলকাতার পুরনো ও জরাজীর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সময় থাকতেই যদি প্রশাসন ও বাড়ির মালিকরা সতর্ক না হন, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। পার্কসার্কাসের এই দুর্ঘটনা শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা বিপজ্জনক বাড়িগুলির দিকে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।




















