কলকাতা – দিনকয়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে ঢুকে ফাঁড়ি ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে পড়েন শুভেন্দু। এই নাটকীয় অবস্থান ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনার জল গড়াল কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আদালতে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে বলেই খবর। বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। ওইদিন পুরুলিয়া থেকে একটি জনসভা সেরে মেদিনীপুরের দিকে ফিরছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ফেরার সময় চন্দ্রকোনা রোডের সাতবাঁকুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল অফিসের সামনে তাঁর কনভয়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন দুষ্কৃতী বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয় এবং কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এই ঘটনার পরই শুভেন্দু নিজের গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা চলে যান চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে পড়ে তিনি স্পষ্ট জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে উঠবেন না। ফাঁড়ি ইনচার্জ তাঁকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ জানালেও অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হননি বিরোধী দলনেতা। দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েন চলার পর শেষ পর্যন্ত তিনি ফাঁড়ি ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, ঘটনার দিনই শুভেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে দেয় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ির উপর কোনও হামলাই হয়নি। তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, অঞ্চল অফিসের সামনে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেই সময় বিজেপির কিছু সমর্থক শুভেন্দুকে স্বাগত জানাতে সেখানে হাজির হন এবং তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পালটা স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মীরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিরোধী দলনেতার নিরাপত্তারক্ষীরাই সবাইকে সরিয়ে দেন। তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে ‘হামলা’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এবার সিবিআই তদন্তের দাবিতে হাই কোর্টে যাওয়ায় চন্দ্রকোনা কাণ্ড নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।




















