
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম,৯ই সেপ্টেম্বর : চন্দ্রযান ২ এর যে উদ্দেশ্য সেই উদ্দেশ্যের ৯৫% সফলতার জন্য ইতিমধ্যেই নাসা থেকে ভারতকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আগেই আমরা এই চন্দ্র অভিযানের সাথে এক বাঙালি হুগলির গুড়াপের খাজুরদহ-মিল্কি পঞ্চায়েতের শিবপুর গ্রামের চন্দ্রকান্ত কুমারের জেনেছি। কিন্তু জানেন কি এই চন্দ্র অভিযানের সাথে যুক্ত রয়েছেন আরো এক বাঙালি বিজ্ঞানী, যাঁর বাড়ি বীরভূমে। আর একথা জানতে পেরে বাঙালি হিসাবে আমরা আরও গর্বিত।
চন্দ্রযান ২ এর সাথে যুক্ত আরও এক বাঙালি হলেন বীরভূমের মল্লারপুর থানার অন্তর্গত দক্ষিণ গ্রামের বিজ্ঞানী বিজয় কুমার দাই। অত্যন্ত মেধাবী বিজয় কুমার বীরভূমের দক্ষিণ গ্রামে এক দরিদ্র চাষি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৪ সালের ২রা মে। বর্তমানে কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। বাবা নারায়ন চন্দ্র দাই একজন চাষী, বাড়িতে রয়েছে ছোট ভাই বাপি দাইও বিএড করার পর চাষের কাজেই নিযুক্ত, যদিও তাঁর বিগত এসএসসি প্যানেলে নাম রয়েছে।
বিজয় কুমার দাইয়ের ভাই বাপি দাইয়ের সাথে আমরা ফোনে যোগাযোগ করে জানতে পারি, বিজয় কুমার দাই ছোট থেকে গ্রামেরই প্রাথমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াকালীন স্কুলের শিক্ষকরা তাঁর মেধার পরিধি উপলব্ধি করতে পারেন। যখন তিনি অষ্টম শ্রেণীতে পড়তেন তখন তাঁর মেধার জন্য তাঁর হাতে নিচু ক্লাসের দায়িত্বও দিয়ে দিতেন স্কুলের শিক্ষকরা। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি যান বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরে পড়াশোনার জন্য। তারপর একে একে কল্যাণী সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে উত্তীর্ণ, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি, গেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, এরোস্পেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর ২০০৭ সালে ইসরোয় একজন বিজ্ঞানী হিসেবে নিজেকে নিয়োগ করা। তিনি পড়াশোনা করেছেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে। আর তারপরেই তিনি এই চন্দ্রযান ২ এর দায়িত্ব পান। তিনি দায়িত্বে রয়েছেন অরবিটারের সাথে ইসরোর তথ্য সংগ্রহের বিজ্ঞানীদের প্রধান হিসাবে।
বিজয় কুমারের রয়েছেন আরও এক দাদা, বিনয় কুমার দাই, যিনি একজন গৌরবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।বিজয় কুমারের ভাই বাপি দাই জানিয়েছেন, “আমরা খুব দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছি। আজ আমার দাদা শুধু আমাদের গর্ব নয়, গোটা জেলা, গোটা রাজ্য এবং দেশের গর্ব।”



















