দক্ষিন 24 পরগণা – চম্পাহাটিতে ফের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওই কারখানায় বাজি তৈরির মশলায় ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে অন্তত চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের সকলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কারখানাটি বসতি এলাকা থেকে কিছুটা দূরে থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে কারখানার সামগ্রী মজুত রাখার জন্য তৈরি পাকা বাড়িটি বিস্ফোরণের জেরে ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত দমকলের একাধিক ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। প্রশাসন পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
শনিবার দুপুর প্রায় ১টা। কারখানায় স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকা ভয়াবহ বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একের পর এক অন্তত দু’থেকে তিন বার বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের চোখের সামনে ধসে পড়ে বাজি কারখানার একটি অংশ। অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশের আরও তিনটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিস্ফোরণের অভিঘাতে কারখানার ভিতরে কাজ চলাকালীন চার জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। প্রথমে তাঁদের বারুইপুরে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, দুপুরে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বুঝতে পারা যায় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কারখানার মালিক বিধান মণ্ডল। তবে কারখানাটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বিস্ফোরণস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে চম্পাহাটিতে একই ধরনের বাজি কারখানার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন বছরের শুরুতেই ফের সেই স্মৃতি আতঙ্কের ছায়া ফেলল এলাকায়।




















