দেশ – এবার খাদ্যের ‘অধিকার’ কি শেষ করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কারণ চাল-গমের বদলে রেশন গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি খাদ্যশস্যের দাম দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে খাদ্যমন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবার রেশন খাতে টাকা বাঁচান।
চণ্ডীগড়, লাক্ষ্মাদ্বীপ, পুদুচেরি, মহারাষ্ট্রে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১১৩ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। এই ধাঁচে গোটা দেশে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন মিলবে। কিন্তু তা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ বেড়ে ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ টাকা বাঁচাতে রেশন গ্রাহক কমানো, খাদ্যশস্যের বদলে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ও ফুড ভাউচার মাধ্যমে নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ‘ই-রুপি’ নামে ডিজিটাল কারেন্সি তৈরি করেছে।
প্রতিটি গ্রাহকের নামে একমাসের মেয়াদ অনুযায়ী মোবাইলে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার পাঠানো হবে। কেন্দ্রে বসে জানা যাবে, কে কখন কোন দোকান থেকে কত খাদ্যশস্য নিয়েছেন। এক বছরের মধ্যে গোটা দেশে এই উদ্যোগ চালুর জন্য বিশেষ নোট তৈরি হয়েছে।
বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তিনি বলেন, ‘রেশন দোকানদারদের রোজগার কেড়ে নিতে চাইছে মোদি সরকার। কার্ড দেয় রাজ্য সরকার। দোকানদারদের ভূমিকাই নেই। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার হলে টাকায় গ্রাহক রেশনই নেবেন এমন গ্যারান্টি কোথায়? ই-রুপির লেনদেনেও সমস্যা হতে পারে।’
কেন্দ্রীয় সরকার ৮১ কোটি ৭১ লক্ষ গরিবকে বিনামূল্যে রেশন দেয় বলে প্রচার করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে পায় ৭৯ কোটি ৪৪ লক্ষ। কেন্দ্র এই সংখ্যা আরও কমাতে চাইছে বলে জানা গেছে। আয়কর, বাহন পোর্টাল, জিএসটি নম্বর, সিবিডিটি প্রভৃতি ব্যবহার করে অযোগ্যদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। আধার কার্ড যাচাই করা হচ্ছে, প্রয়াত ব্যক্তি রেশন পাবেন না। এতে রাজকোষ থেকে খরচ কমে যাবে—এটাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।




















