চূড়ান্ত তালিকার পর বড়সড় ছাঁটাই: ৯১ লক্ষ নাম বাদ, লক্ষাধিক ভোটার এখন অনিশ্চয়তায়

চূড়ান্ত তালিকার পর বড়সড় ছাঁটাই: ৯১ লক্ষ নাম বাদ, লক্ষাধিক ভোটার এখন অনিশ্চয়তায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ছিলেন বিচারাধীন তালিকায়। তাঁদের নথি যাচাইয়ের জন্য বিচারকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই যাচাই প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত হয়েছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। রাজ্যের ১০টি জেলা বাদে বাকি প্রায় সব জেলায় বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন বিচারকরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫টি অভিযোগের মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২টির নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্রের খবর, যাঁদের নথি যাচাইয়ের পর বৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠেছে, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য রয়েছে ট্রাইব্যুনালে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ। যদিও ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে প্রথম দফার ভোটার তালিকা সোমবার ফ্রিজ হয়ে গেছে। ফলে পরবর্তীতে কেউ বৈধ প্রমাণিত হলেও আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনকে বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনকে অবৈধ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হবে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে Murshidabad জেলায়। পাশাপাশি North 24 Parganas, Cooch Behar, South 24 Parganas এবং Purba Bardhaman জেলাতেও বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদেই ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনকে অবৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। Nadia জেলায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০টি অভিযোগের নিষ্পত্তির মধ্যে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২৬টি নথি অবৈধ বলে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ লক্ষ ২২ হাজার ৯২৯ জনকে অবৈধ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা অনলাইন বা অফলাইন—দুইভাবেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top