চোরবাগান কাণ্ডের পর বিষাদের সুর পুজোর কলকাতায়, সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারে ভিড় কমানোর আবেদন সজল ঘোষের

চোরবাগান কাণ্ডের পর বিষাদের সুর পুজোর কলকাতায়, সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারে ভিড় কমানোর আবেদন সজল ঘোষের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা: চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর পুজোর কলকাতায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। সপ্তমীর রাতেও মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোয় উপচে পড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। লাখ লাখ মানুষের সমাগমের মধ্যেও অনেকের মনেই রয়েছে দুর্ঘটনার শোক। এই পরিস্থিতিতে ফেসবুক লাইভে এসে দর্শনার্থীদের যতটা সম্ভব দ্রুত বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদন জানালেন সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক সজল ঘোষ।

ফেসবুক লাইভে সজল ঘোষ বলেন, চোরবাগানের ঘটনার পর পুজোর আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত। তবে এক মুহূর্তে পুজো পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শব্দ বন্ধ করা বা দরজা বন্ধ করার চেষ্টা হলে দর্শনার্থীদের একাংশ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, ফলে হঠাৎ করে সবকিছু বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সজল ঘোষের কথায়, “পুজোর সব আনন্দ চোরবাগান নিয়ে চলে গিয়েছে। চোরবাগানের ঘটনার আমরা আহত, ব্যথিত। একঝটকায় সব বন্ধ করতে পারছি না। তাতে সমস্যা বাড়বে।” দর্শনার্থীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, যাঁরা ইতিমধ্যেই পুজো দেখেছেন, তাঁরা যেন আর ভিড় না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরে যান।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পরিস্থিতি সম্পর্কে সজল ঘোষ জানান, তাঁদের মাঠে আপাতত কোনও সমস্যা নেই এবং দর্শনার্থীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবেই প্রবেশ করছেন। তবু চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর উৎসবের উচ্ছ্বাস ধরে রাখা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “সনাতনের পুজো, বাঙালির পুজোয় এরকম ঘটনা ঘটলে আর কোনও উচ্ছ্বাস থাকে না।” পরিস্থিতি সামাল দিতে ধীরে ধীরে পুজো বন্ধের দিকে এগোনোর কথাও জানান তিনি। দর্শনার্থীদের কাছে তাঁর করজোড়ে আবেদন, পুজো আবার আসবে—তাই আপাতত ভিড় এড়িয়ে ফিরে যান।

অন্যদিকে, চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টালা প্রত্যয়ের পুজোমণ্ডপও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। টালা প্রত্যয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক নির্দেশ অনুসারে মণ্ডপ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুজো কমিটি।

চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর উৎসবের মরশুমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুজোর আনন্দের মাঝেই তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে নিরাপদে উৎসব উপভোগ করবেন সাধারণ মানুষ?

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top