কলকাতা: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই আরও এক বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হল দক্ষিণ কলকাতার নেহরু কলোনির দুর্গাপুজো মণ্ডপে। সোমবার মহাষ্টমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে আগুন লেগে যায়। ঘটনার পরই নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকলের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, মণ্ডপে জ্বলতে থাকা প্রদীপ থেকেই কোনওভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাতে প্রবল বৃষ্টি এবং দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। উৎসবের মরশুমে এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা রাজ্যেই শোকের আবহ তৈরি করেছে।
চোরবাগান-কাণ্ডের পর রাজ্য সরকারের তরফে নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আহতদের প্রত্যেককে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহনের আশ্বাসও দিয়েছে রাজ্য সরকার।
একদিকে চোরবাগানের দুর্ঘটনার শোক, অন্যদিকে নেহরু কলোনির মণ্ডপে আগুন—পরপর এই ঘটনাগুলি পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। উৎসবের বাকি সময়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য মণ্ডপগুলিতে সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এল।




















