
নিজস্ব সংবাদদাতা,পশ্চিম বর্ধমান,২৬ শে সেপ্টেম্বরঃ গতকালই আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং বেশ দায়িত্ব নিয়েই সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ছেলেধরা গুজব অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে , ক্রমাগত সচেতনতা প্রচারে । কিন্তু আদৌ কি তাই ? কোকওভেন থানা এলাকার সগরভাঙ্গায় গতকাল রাতে সগরভাঙ্গাতেই হেনস্থার শিকার হলেন এক সেনাবাহিনীর জওয়ান । পরে পুলিশ এসে ওই জওয়ানকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় ।
কোকওভেন থানা এলাকায় গত কয়েকদিন ধরেই ছেলেধরা গুজব কার্যত মহামারীর আকার নিয়েছে । সগরভাঙ্গা গ্রামে আতংকিত গ্রামবাসীরা পালা করে রাতপাহারার কাজ করছে । তারাই গতকাল রাতে ভৈরবতলায় এক ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে ধরে ফেলে । মুহুর্তে দাবানলের মতন গোটা গ্রামে খবর ছড়িয়ে যায় যে ছেলেধরা ধরা পড়েছে । গোটা গ্রাম অকুস্থলে পৌঁছে যায় । আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে স্থানীয়রা । ওই ব্যক্তি রাজস্থানী ভাষায় কথা বলছিল । এরপর ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয়পত্র দেখায় । তখন দেখা যায় যে তিনি একজন সেনাবাহিনীর জওয়ান । জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে গয়া থেকে আগত ওই জওয়ান রাস্তা ভুল করে এই এলাকায় চলে এসেছে ।
ঘটনাস্থলে কোকওভেন থানার পুলিশ এসে ওই জওয়ানকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় । উদ্ধার করতে এসে মানুষের রোষের মুখে পড়ে পুলিশ । স্থানীয়দের দাবি , সন্ধ্যের পর থেকে প্রতি এলাকায় টহলদারীর ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকে ।
যদিও গ্রামবাসীরা জানাচ্ছে যে এখনও বাস্তবে কোনও ” ছেলেধরা ” তাদের চোখে পড়েনি । কেউ কেউ বলছেন শুধুই গুজব । তবে এই গুজবের “মহামারী ” তে নাজেহাল পুলিশ প্রশাসন । গত পরশু অর্থাৎ ২৪ তারিখ রাতে এক ভবঘুরে সাধুকে লিলুয়াবাঁধ এলাকায় ব্যপক মারধোর করে এলাকাবাসী । সেই ঘটনার জেরে ৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতে পাঠায় । তাদের ১ মাসের জেল হেফাজত হয় । শহরের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ অবশ্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন । এর পাশাপাশি আতংকে রয়েছেন সাধারন মানুষ ।



















