রাজ্য – Droupadi Murmu বাংলায় এসে এখানকার জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উত্তরবঙ্গের একটি সভা থেকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে রাজ্যের সংখ্যালঘু ও তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষরা হয়তো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে এর জবাব দেন Mamata Banerjee। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচার করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি রাজ্যের জনজাতি উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে জনজাতি উন্নয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নামঞ্চ থেকে বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করেন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে কেউ এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়, তবে প্রশাসনের অন্যান্য কাজ থাকার কারণে সবসময় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তিনি তখন এসআইআর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের দাবিতে ধর্নায় বসেছিলেন, তাই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেননি। তাঁর প্রশ্ন, অন্য রাজ্যে আদিবাসী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে কেন একইভাবে আলোচনা হয় না, অথচ বারবার পশ্চিমবঙ্গকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মঞ্চ থেকেই বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে আদিবাসী সমাজের মানুষরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছেন না এবং তাদের উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। বাগডোগরা বিমানবন্দর সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে ভিড় কম থাকায় তিনি প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী জায়গার অভাব ছিল, কিন্তু এই মাঠে বহু মানুষ সহজেই উপস্থিত থাকতে পারতেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তাঁর রাগের বিষয়েও মন্তব্য করেন, যদিও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলে স্পষ্ট করেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও তীব্র হয়েছে। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ Raju Bista রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তোলেন এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি Roma Reshmi Ekka পাল্টা বলেন, অনুষ্ঠানের বিষয়ে সঠিক যোগাযোগ না থাকায় তৃণমূল প্রতিনিধিরা মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেননি এবং আগে থেকে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি।




















