রাজ্য – মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত ১৫ বছরে একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে নজির গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী ও যুবসাথীর মতো প্রকল্প রাজ্যের বহু সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধীরা তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, জনপ্রিয়তার নিরিখে তিনি এখনও অনেকটাই এগিয়ে—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম News18-এর সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায়।
সমীক্ষা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চান ৪৮.৫ শতাংশ উত্তরদাতা। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে পছন্দ করছেন ৩৩.৪ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ, বিজেপির সমর্থকদের মধ্যেও একটি অংশ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে অনিচ্ছুক—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা।
সোমবার, ২৩ মার্চ প্রকাশিত এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গতবারের তুলনায় আসন কিছুটা কমলেও এবারও নবান্নের চৌদ্দতলায় ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। All India Trinamool Congress পেতে পারে ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন। অন্যদিকে Bharatiya Janata Party পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে প্রায় ৩টি আসন। ফলে বিজেপির আসন বৃদ্ধি পেলেও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার থেকে অনেকটাই দূরে থেকে যেতে হচ্ছে পদ্ম শিবিরকে।
গত পাঁচ বছরের কাজের নিরিখেও রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের মূল্যায়ন বেশ ইতিবাচক। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৪৩.৩ শতাংশ উত্তরদাতা তৃণমূল সরকারের কাজকে ভালো বা খুব ভালো বলেছেন। বিপরীতে ১৮.৩ শতাংশ সরকারকে খারাপ এবং ২০.৬ শতাংশ খুব খারাপ বলে মত দিয়েছেন।
ভোট শতাংশের নিরিখেও এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সমীক্ষা বলছে, তৃণমূল পেতে পারে ৪১.৯ শতাংশ ভোট, যেখানে বিজেপির সম্ভাব্য ভোট ৩৪.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই প্রধান দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৭ শতাংশ। অন্যদিকে একলা লড়াই করা Indian National Congress পেতে পারে মাত্র ৩.৬ শতাংশ ভোট এবং Left Front পেতে পারে ৪.১ শতাংশ ভোট। অন্যান্যদের সম্ভাব্য ভোট ২.৫ শতাংশের কাছাকাছি। তবে এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন।
সমীক্ষা আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে, কংগ্রেস ও বাম প্রার্থীদের পক্ষে শূন্যের গেরো কাটানো কঠিন হতে পারে। এমনকি বহু আসনে তাদের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




















