
নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,২৯ শে আগস্ট : মৎস্যজীবী জানালেন ভারত বাংলাদেশ জলসীমায় বাংলাদেশের ট্রলারে করে অন্যান্য মৎসজীবীদের সঙ্গে মাছ ধরছিলেন মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন। হঠাৎ একদল জলদস্যু ট্রলারে হামলা চালায়, মৎস্যজীবীদের ইলিশ জাল কেটে দেয়, দস্যুরা ট্রলারে উঠতে শুরু করে। জীবন বাঁচাতে নিজামুদ্দিন ও আরেকজন মৎস্যজীবী নদীতে ঝাঁপ দেন।
অন্যান্যদের মৎস্যজীবীদের কথাটা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন তাদের খবর তিনি পাননি এই বলতে বলতে বাঁধভাঙ্গা কান্নায় ভেঙে পড়লেন নিজামুদ্দিন, কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন জলদস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে আরো অনেক মৎসজীবীদের সঙ্গে ঝাঁপ দিয়েছিলাম গভীর অন্ধকারের। তাদের মধ্যে দুজনে ভাসতে থাকি। এক সময় তার সঙ্গীর কোন খোঁজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমি একাই ভাসতে থাকি, কোথায় যাচ্ছি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না, মনে মনে ভাবছিলাম আর হয়তো জীবন নিয়ে ফিরতে পারব না বাড়িতে। হঠাৎ একটি বিরাট ধাক্কায় একসময় গভীর জঙ্গলে নির্জন দ্বীপের চড়ায় উঠে পড়ে জল পিপাসায় তখন তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কোনো কিছু না ভেবেই সমুদ্রের নোনা জল খেয়ে নিয়ে সারা রাত কেটে যায়। অন্ধকারে কয়েক ঘন্টা কাটার পর সকালে আলো ফুটেছে নিজামুদ্দিন তখন জানেনা সে কোথায় আছে। হঠাৎ দেখতে পায় নদীতে একটি ট্রলার। তখন জীবন বাঁচাতে চিৎকার করতে থাকে সে। এই চিৎকার শুনে মৎস্যজীবীরা তার দিকে এগিয়ে আসে মৎস্যজীবীরা তাকে উদ্ধার করে তুলে নেয়।
পরে সে জানতে পারেন ভারতীয় “মা মনি মালা” মৎস্যজীবীরা তাকে বাঁচিয়েছে। ভারতীয় মৎস্যজীবীরা জামা কাপড় দিয়ে তাকে সেবা শুশ্রূষা করে আজ দুপুরে ট্রলার নিয়ে রায়দিঘি ফেরিঘাটে এসে পৌঁছালে বাংলাদেশী মৎসজীবীকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠায়। নিজাম উদ্দিন বলেন আমার বিশ্বাস উপরওয়ালা পাঠিয়েছে আমার জীবনটাকে বাঁচাতে ওদের। নতুবা এই সময় ওখান দিয়ে ট্রলার আসার কোন কথাই ছিল না। কাছে আমি চির ঋণী হয়ে থাকবো ভারতীয় ট্রলারের মৎস্যজীবীদের কাছে।



















