রাজ্য – দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার পর শর্তসাপেক্ষে জল জীবন মিশন প্রকল্পের অর্থ রাজ্য সরকারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে ‘স্কিমভিত্তিক অর্থ’ দেওয়া হবে। কয়েক দিন আগেই এ বিষয়ে নতুন নিয়মগুলির কথা রাজ্যকে লিখিতভাবে জানায় কেন্দ্র। সূত্রের খবর, নবান্ন ইতিমধ্যেই সেই শর্ত মানতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
জলশক্তি মন্ত্রকের শর্ত অনুসারে, প্রতিটি স্কিমের জন্য আলাদা আইডি নম্বর তৈরি করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রতিটি স্কিমে আর্থিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্পর্কেও জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্য কত টাকা খরচ করেছে এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের সঙ্গে কোনও অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না—টাকা ছাড়ার আগে তা খতিয়ে দেখবে জলশক্তি মন্ত্রক। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নিয়মগুলি মানা বাধ্যতামূলক বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়।
কেন্দ্রের শর্তসাপেক্ষে অর্থ ছাড়ের আশ্বাস পাওয়ার পর রাজ্যও প্রস্তুতি শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সব এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ইতিমধ্যে জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে দ্রুত স্কিম আইডি তৈরির জন্য। কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই ৫৫টি স্কিম আইডি তৈরি হয়েছে বলে দফতর সূত্রের খবর। এর ফলে আগামী মাসেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে কেন্দ্র আশ্বাস দিলেও অর্থ পাওয়া নিয়ে একাংশ আধিকারিকের সন্দেহ এখনও কাটেনি। কারণ ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিলেও এখনও টাকা পাওয়া যায়নি। ফলে নবান্নের একাংশ মনে করছে—বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত সংশয় থেকেই যাবে। এক আধিকারিকের কথায়, “রাজ্য সরকার জল জীবন মিশনের নাম ‘জলস্বপ্ন’ করেছে—এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্র টাকা আটকে দিয়েছিল। পরে দিল্লির বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য সেই শর্ত মানতে প্রস্তুত।”




















