জিয়াগঞ্জে আমির খান–অরিজিৎ সিংয়ের উপস্থিতি ঘিরে উচ্ছ্বাস থেকে বিতর্ক, নিয়মভঙ্গের অভিযোগে উত্তাল কলেজ চত্বর

জিয়াগঞ্জে আমির খান–অরিজিৎ সিংয়ের উপস্থিতি ঘিরে উচ্ছ্বাস থেকে বিতর্ক, নিয়মভঙ্গের অভিযোগে উত্তাল কলেজ চত্বর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিনোদন – জিয়াগঞ্জে বলিউড অভিনেতা আমির খান ও জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের উপস্থিতি ঘিরে প্রথমে যে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নেয় তীব্র বিতর্কে। দুই তারকার বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ঘিরে উৎসবের আবহ থাকলেও, পরে সামনে আসে নিয়মভঙ্গ ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনার কেন্দ্রে উঠে আসে জিয়াগঞ্জের রানি ধন্য কুমারী সরকারি কলেজ।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কোনওরকম লিখিত অনুমতি ছাড়াই একাধিক মোটরবাইকে করে একটি দল কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই দলে আমির খান ও অরিজিৎ সিং উপস্থিত ছিলেন। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টা থেকে ভোর ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁরা ক্যাম্পাসের ভিতরেই ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় কলেজের ইনডোর গেমস হলে ব্যাডমিন্টন খেলা হয় এবং কিছু দৃশ্যের শুটিংও করা হয়। একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে মধ্যরাতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া এবং নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে এই প্রবেশ ও কার্যকলাপ সম্পূর্ণ অনিয়মের মধ্যে পড়ে।
ঘটনার পর জিয়াগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী সোশাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— পরিচিত মুখ বা তারকা হলেই কি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম উপেক্ষা করার অধিকার থাকে? তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করেই অনুমতি ছাড়াই কলেজে ঢোকা হয়েছিল এবং কলেজ চত্বর বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এই প্রতিবাদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই অধ্যক্ষ তাঁর সেই পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলেন। পরে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি জানান, তাঁকে বাধ্য হয়েই আগের পোস্ট ডিলিট করতে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। পোস্ট করার পর তিনি কটাক্ষের মুখে পড়েন এবং পরিস্থিতি বিচার করেই বিতর্ক থামাতে পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর থেকেই স্থানীয় স্তরে গুঞ্জন ছড়ায়, প্রভাবশালী মহলের চাপে কি অধ্যক্ষ পিছিয়ে এলেন?
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জনমত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশের মতে, এটি তারকাদের ব্যক্তিগত সময় কাটানোর বিষয় মাত্র। তবে অন্যদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক অনুমতি এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে। গভীর রাতে কোনও কলেজ চত্বরে প্রবেশ, খেলাধুলা বা শুটিং আদৌ নিয়মসঙ্গত কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে জোরালোভাবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনায় তারকাদের উপস্থিতির থেকেও বড় বিষয় হল সরকারি পরিকাঠামোর ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতা ও জনপ্রিয় গায়কের উপস্থিতিতে যদি এমন অনিয়ম ঘটে, তবে সাধারণ ক্ষেত্রে নজরদারি ও নিয়মপ্রয়োগ কতটা কার্যকর, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
এই বিতর্কে এখনও পর্যন্ত আমির খান বা অরিজিৎ সিং— কারও তরফেই কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অধ্যক্ষের পোস্ট মুছে যাওয়ার পরও প্রশ্ন থামেনি। জিয়াগঞ্জের অলিগলি থেকে শুরু করে সোশাল মিডিয়ার পরিসর— সর্বত্রই এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, নিয়ম কি সত্যিই সকলের জন্য সমান, নাকি খ্যাতির আড়ালে সবকিছুই ঢেকে যায়?

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top