দেশ – দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো টানা তৃতীয় দিন প্রবল বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ল। বৃহস্পতিবার একদিনেই ৫৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে—২০ বছরের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। সংস্থার দাবি, ক্রু রোস্টার সমস্যা, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং নতুন ডিউটি-নর্মস কার্যকর হওয়ায় গোটা দেশের অপারেশন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২,৩০০ ফ্লাইট পরিচালনা করা ইন্ডিগোর ক্ষেত্রে সময়নিষ্ঠতা দীর্ঘদিন ধরেই পরিচয়ের অংশ হলেও বৃহস্পতিবার তা নেমে আসে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী কয়েকদিন আরও ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনাও আগেই জানিয়েছে সংস্থা।
এদিন ইন্ডিগোর শীর্ষ কর্তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রক ও ডিজিসিএ। বৈঠকের পরে জানানো হয়, স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবার্স কর্মীদের জানান, পরিষেবা সম্পূর্ণ সচল করা ‘অত্যন্ত কঠিন লক্ষ্য’ হলেও সংস্থা সেই পথে অগ্রসর হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাতিলের যে চিত্র মিলেছে তা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝিয়ে দেয়—মুম্বইয়ে ১১৮, বেঙ্গালুরুতে ১০০, হায়দরাবাদে ৭৫, কলকাতায় ৩৫, চেন্নাইয়ে ২৬ এবং গোয়ায় ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL)-এর দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইন্ডিগোর ক্রু-চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী রাতের ডিউটির সংজ্ঞা বদলে যাওয়ায় এবং পাইলটদের ডিউটি টাইমে কঠোর সীমাবদ্ধতা থাকায় রোস্টারের উপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে—বিশেষত রাতের অপারেশনে। স্লট কম, কিন্তু পাইলটের প্রয়োজন বেশি—এই পরিস্থিতি ইন্ডিগোর সময়সূচিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
তদুপরি প্রযুক্তিগত সমস্যাও জটিলতা বাড়িয়েছে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে রোস্টারিং আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত শিডিউল ধরে রাখতে গিয়ে বারবার পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থা। অন্যদিকে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া পাইলোটস (FIP) সরাসরি ইন্ডিগোর ওপর দায় চাপিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ রেখেছে ইন্ডিগো, কর্মীর সংখ্যা ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’, এমনকি পাইলটদের বেতনও স্থগিত ছিল—এই সবের ফলেই আজ অপারেশন ভেঙে পড়েছে।
যদিও ইন্ডিগো জানিয়েছে, পরিষেবা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত শিডিউল সামঞ্জস্য করেই চলবে সংস্থা। যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে অতিরিক্ত হেল্পডেস্ক, নোটিফিকেশন সিস্টেম ও আপডেট পরিষেবাও চালু করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা আগে থেকেই ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন।




















