খেলা – টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হয়েছে প্রবল উত্তেজনা ও একের পর এক রেকর্ড ভাঙার সাক্ষী হয়ে। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করছেন চমকপ্রদ মুহূর্ত। এই আবহেই ষষ্ঠ ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে শিরোনামে উঠে এলেন শ্রীলঙ্কার তারকা অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন তিনি।
এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন হাসারাঙ্গাই। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনি খুব কম রান দিয়ে তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাঁর এই পারফরম্যান্সের জোরেই শ্রীলঙ্কা ২০ রানে আয়ারল্যান্ডকে হারাতে সক্ষম হয়। ম্যাচে নেওয়া তৃতীয় উইকেটটি ছিল হাসারাঙ্গার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৪০তম উইকেট, যা তাঁর কেরিয়ারের এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
এই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে যায় পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার শাহিদ আফ্রিদির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৩৪টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে আফ্রিদি নিয়েছিলেন ৩৯টি উইকেট। অন্যদিকে, ২০২১ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর মাত্র ২০টি ম্যাচ খেলেই ৪০ উইকেট নিয়ে তাঁকে ছাপিয়ে যান হাসারাঙ্গা এবং সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে।
চলতি বিশ্বকাপে হাসারাঙ্গার সামনে আরও বড় ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের শাকিব আল হাসানের দখলে, যিনি ৪৩ ম্যাচে ৫০টি উইকেট নিয়েছেন। হাসারাঙ্গা যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবে সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর স্বপ্নও বাস্তবের কাছাকাছি চলে আসতে পারে।
শুধু বিশ্ব রেকর্ডই নয়, শ্রীলঙ্কার হয়েও নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন হাসারাঙ্গা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি এখন শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার, ভেঙেছেন লাসিথ মালিঙ্গার ৩৮ উইকেটের রেকর্ড। ম্যাচে ব্যাট হাতে কুশল মেন্ডিসের ৫৬ এবং কামিন্দু মেন্ডিসের ৪৪ রানের সাহায্যে শ্রীলঙ্কা তোলে ১৬৩ রান। জবাবে আয়ারল্যান্ড ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।
জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করায় আত্মবিশ্বাসে ভরপুর শ্রীলঙ্কা। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ওমান, আর ক্রিকেটবিশ্ব তাকিয়ে থাকবে হাসারাঙ্গার পরবর্তী কীর্তির দিকে।




















