দেশ – নতুন বছরে ট্রাফিক আইন আরও কড়া করল কেন্দ্র। সদ্য সংশোধিত মোটর ভেহিকেল রুলস অনুযায়ী, এক বছরে পাঁচ বা তার বেশি বার ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল বা সাসপেন্ড হতে পারে। বুধবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিয়ম ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে আগের বছরের কোনও ট্রাফিক অপরাধ এই হিসেবের মধ্যে ধরা হবে না। শুধুমাত্র চলতি বছরে নথিভুক্ত হওয়া লঙ্ঘনই গণনায় আসবে।
নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে মোটর ভেহিকেল আইনের অন্তত পাঁচটি ধারা লঙ্ঘনের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চালককে লাইসেন্স রাখার অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। সেই ক্ষেত্রে লাইসেন্স কতদিনের জন্য সাসপেন্ড থাকবে, তা ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করার আগে চালককে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল নিয়মিত ট্রাফিক আইন ভাঙা চালকদের লাগাম টানা এবং সড়ক নিরাপত্তা আরও মজবুত করা। নতুন ব্যবস্থায় বারবার ছোটখাটো অপরাধ করলেও তার সম্মিলিত প্রভাব বড় শাস্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে মোট ২৪টি ট্রাফিক অপরাধকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এর মধ্যে যে কোনও পাঁচটি অপরাধ প্রমাণিত হলেই লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, হেলমেট বা সিটবেল্ট না পরা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, বেআইনি পার্কিং, অতিরিক্ত বোঝা বহন, গাড়ি চুরি, সহযাত্রীদের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণ-সহ একাধিক অপরাধ। অর্থাৎ ছোট অপরাধের সমষ্টিতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হবে কি না এবং কতদিনের জন্য, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর বা জেলা পরিবহণ দফতর। আগে সাধারণত ধাপে ধাপে তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের জন্য লাইসেন্স বাতিল করা হত। নতুন নিয়মে ই-চালানই যথেষ্ট লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য। পুলিশকর্তাদের মতে, এতে বারবার আইন ভাঙার সুযোগ কমবে। যদিও তাঁদের সতর্কতা, স্পষ্ট এসওপি ও শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো না থাকলে সাধারণ চালকদের অকারণে প্রশাসনিক সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
এর পাশাপাশি টোল বকেয়া থাকলেও বড়সড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে গাড়ির মালিকদের। সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬ অনুযায়ী, টোল না মেটালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। টোল বকেয়া থাকলে আন্তঃরাজ্য গাড়ি স্থানান্তরের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ মিলবে না, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণ হবে না এবং বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিটও আটকে যাবে।
নতুন নিয়মে ‘টোল বকেয়া’-র সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনও গাড়ি টোল প্লাজা পার হয়ে গেলেও যদি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে টাকা কাটা না পড়ে, তা হলেও সেই অর্থ বকেয়া হিসেবেই গণ্য হবে। কেন্দ্রের দাবি, এই ব্যবস্থায় জাতীয় সড়কে টোল ফাঁকি রোখা অনেকটাই সহজ হবে।




















