দেশ – মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার বাজার খুলতেই ধস নামে শেয়ারবাজারে। BSE Sensex প্রায় ১৫২০ পয়েন্ট পড়ে যায়, পাশাপাশি Nifty 50-তেও ৪০০ পয়েন্টের বেশি পতন দেখা যায়। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় টাকার মূল্য নেমে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৮৩—যা প্রায় সর্বকালীন রেকর্ড পতনের কাছাকাছি।
এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। রবিবার ইরানের শক্তিসম্পদের উপর হামলার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। পাল্টা ইরান জানায়, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই প্রণালী দিয়েই ভারতের প্রায় অর্ধেক জ্বালানি আমদানি হয়, ফলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-এর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান। এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতেও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই টাকার মূল্য নিম্নমুখী, সেনসেক্স ও নিফটিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দালাল স্ট্রিটে এই রক্তক্ষরণের মূল কারণ অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ কবে থামবে তার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং বাজারে বিক্রির চাপও বাড়ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের কারণে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হবে। পাল্টা তেহরানও কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতে। বাজারের এই অস্থিরতা এবং টাকার অবমূল্যায়ন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।




















