ডিএ মামলা ঘিরে নতুন জটিলতা: শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া ভাতা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

ডিএ মামলা ঘিরে নতুন জটিলতা: শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া ভাতা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুল-কলেজের কয়েক লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ পাওয়ার অধিকারী কি না, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটি ইতিমধ্যেই দুই দফা বৈঠক করে প্রাপকদের একটি হিসেব আদালতে জমা দিয়েছে। সেখানে রাজ্যের কর্মরত সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বিষয়ে কোনও উল্লেখ করা হয়নি। এই নথি আদালতে জমা পড়তেই আইনজীবী মহল ও মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজ্যের তরফে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। তবে বকেয়া ডিএ-এর প্রথম কিস্তির টাকা কীভাবে বা কোন পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নথিতে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিটিতে আদালত মনোনীত তিন জন সদস্য ছাড়াও রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র। দিল্লিতে এই কমিটির প্রথম বৈঠক গত ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কীভাবে বকেয়া ডিএ মেটানো যেতে পারে, তার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বৈঠকেও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয় এবং রাজ্যের নির্দেশ কার্যকর করার অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়।
তবে এখনও পর্যন্ত ডিএ মেটানোর বিষয়ে রাজ্যের তরফে স্পষ্ট কোনও পরিকল্পনা সামনে আসেনি বলে জানা যাচ্ছে। কমিটির চেয়ারপার্সন নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের কোনও সেক্রেটারি পদমর্যাদার আধিকারিককে ৩ মার্চের মধ্যে বা ওই দিনই হলফনামা জমা দিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। অন্যদিকে শীর্ষ আদালত আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ৫ ফেব্রুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ প্রদান করতে হবে। মনিটরিং কমিটির পরবর্তী বৈঠকও ৩ মার্চ নির্ধারিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারের যে অবস্থান সামনে এসেছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী রাজ্য সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ডিএ দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী। তাঁর মতে, সরকার অবস্থান পরিবর্তন না করলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে। তবে ডিএ মামলার সঙ্গে যুক্ত এক আইনজীবীর মতে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপে ডিএ পাওয়ার অধিকারী হলেন কর্মরত সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তরা, কারণ মামলাটি মূলত সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের তরফে দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার যদি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে, তাহলে সেই সুবিধা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top