ডেপুটেশন ঘিরে মালদা কলেজে তুমুল উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্র পরিষদ-ABVP; ‘বহিরাগত’ নিয়ে বিক্ষোভ, পরিস্থিতি সামলাতে নামল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী

ডেপুটেশন ঘিরে মালদা কলেজে তুমুল উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্র পরিষদ-ABVP; ‘বহিরাগত’ নিয়ে বিক্ষোভ, পরিস্থিতি সামলাতে নামল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


মালদা

কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ, পানীয় জলের সমস্যা, র‍্যাগিং এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে মালদা কলেজে উত্তেজনা ছড়াল। বুধবার কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের সামনেই মুখোমুখি হয়ে পড়ে ছাত্র পরিষদ ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা ABVP। দু’পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং উত্তপ্ত বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

জানা গিয়েছে, মালদা কলেজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বুধবার ডেপুটেশনের কর্মসূচি নিয়েছিল ছাত্র পরিষদ। কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ, র‍্যাগিং, বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের অভিযোগ-সহ একাধিক দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি হয়। মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী এবং ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আসিফ শেখের নেতৃত্বে কলেজ গেটের সামনে জড়ো হন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের হাতে ছিল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড।

ছাত্র পরিষদের কর্মসূচিকে ঘিরেই পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করে ABVP। তাদের অভিযোগ, কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ডেপুটেশন দিতে পারেন, কিন্তু সেই কর্মসূচির নামে বহিরাগতদের কলেজ চত্বরে নিয়ে আসা হচ্ছে। ABVP-র দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে কোনও রাজনৈতিক দলের বহিরাগতদের এনে উত্তেজনা তৈরি বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে ছাত্র পরিষদের অভিযোগ, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলেজের সমস্যাগুলি নিয়ে অধ্যাপকের কাছে ডেপুটেশন দিতে এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কলেজের গেটের সামনে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছে। সাংসদ ইশা খান চৌধুরী এবং ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আসিফ শেখের দাবি, এভাবে একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। বেশ কিছুক্ষণ ধরে কলেজ গেটের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও এলাকায় নামানো হয়। যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।

ABVP-র দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সংযোজক শুভজিৎ মালাকার অভিযোগ করেন, কলেজ ক্যাম্পাসকে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, কলেজে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সংগঠন করতে পারেন, কিন্তু রাজনৈতিক দলের বহিরাগতদের এনে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি করা মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর আরও অভিযোগ, ছাত্র পরিষদের কর্মসূচিতে বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন।

অন্যদিকে ছাত্র পরিষদের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত এবং কলেজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। ফলে তাঁদের কর্মসূচি আটকে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর মালদা কলেজ চত্বরে আপাতত কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে। কলেজে ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি চলছে। ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে দুই সংগঠনের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যেই এখন নজর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top