তথ্য ও ভিজিলেন্স কমিশনার নিয়োগে জাত বৈষম্যের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী-মোদী–রাহুল বৈঠক ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে

তথ্য ও ভিজিলেন্স কমিশনার নিয়োগে জাত বৈষম্যের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী-মোদী–রাহুল বৈঠক ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দেশ – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বৈঠক নতুন না হলেও বুধবারের বৈঠক ছিল ব্যতিক্রমী। প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্বে হওয়া ৩ সদস্যের কমিটির এই বৈঠক স্থায়ী হয় ৮৮ মিনিট—যা দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘতম আলোচনার নজির। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বভাবতই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, তথ্য কমিশনার এবং ভিজিলেন্স কমিশনার নিয়োগের বিষয়েই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য-পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেন। সেই তথ্য দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগে জাত বৈষম্য করা হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদেরও বঞ্চিত করা হচ্ছে। দিন কয়েক আগে আবেদনকারীদের জাত ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে রাহুল সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। বুধবার সকালে সরকারের দেওয়া সেই তথ্য অনুযায়ী, মোট আবেদনকারীর মধ্যে তপশিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু মিলিয়ে ৭ জন আবেদন করলেও, তাঁদের মধ্য থেকে মাত্র এক জনকে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে।

বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, অনেক যোগ্য তপশিলি, সংখ্যালঘু ও ওবিসি অফিসার থাকা সত্ত্বেও তাঁদের প্রশাসনের মর্যাদাপূর্ণ পদে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের নির্বাচিত বহু প্রার্থী অতীতে নানান নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, অর্থাৎ বিবেচনাযোগ্য নন। রাহুলের বক্তব্য ছিল, যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, পক্ষপাতের ভিত্তিতেই প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে।

রাহুল যে এই বৈঠকে সরব হবেন, তার আভাস মিলেছিল আগের দিন লোকসভায়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটিগুলিতে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী ও এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। বিরোধী দলনেতার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলেই অভিযোগ তোলেন তিনি।

অতীতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অধীর চৌধুরীও এই ধরনের নিয়োগ বৈঠকে সরকারের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিলেন। ২০২০ ও ২০২৩ সালের বৈঠকে তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও সরকার নিজের পছন্দের অফিসারদেরই নিয়োগ করেছিল। রাহুল গান্ধীও বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে প্রশাসনের ভেতরে জাতপাতের বৈষম্য গেড়ে বসেছে এবং নিম্নবর্গের যোগ্য অফিসারদের মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী এবং রাহুল গান্ধীর দীর্ঘ বৈঠক রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। জাত বৈষম্য ও সংখ্যালঘু বঞ্চনার প্রশ্নে বিরোধী নেতার অভিযোগ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top