রাজ্য -;গত ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রায় বড়সড় পতনের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমানতায় প্রভাব পড়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, তাপমাত্রার এই আকস্মিক পরিবর্তনই ঘন কুয়াশার মূল কারণ। তারই প্রভাব পড়ে শনিবার নদিয়ার তাহেরপুরে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সভা থাকলেও দৃশ্যমানতা কম থাকায় নরেন্দ্র মোদীর কপ্টার নামতে পারেনি।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাজ্যে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার তা আচমকাই নেমে আসে ২১ ডিগ্রির ঘরে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে দিনের তাপমাত্রায় প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পতন ঘটে। এই তাপমাত্রা হেরফেরের জেরেই সকালের কুয়াশা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন হয়ে ওঠে।
সাধারণত শীতের দিনে সকাল সাড়ে ৯টা বা ১০টার মধ্যেই রোদের তেজ বাড়তে শুরু করে এবং কুয়াশা কাটতে থাকে। কিন্তু শনিবার সেই স্বাভাবিক ছক ভেঙে যায়। সকাল ১১টা পর্যন্তও রোদের তেমন প্রভাব না পড়ায় কুয়াশা কাটেনি। ফলে ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দৃশ্যমানতায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দিনের তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জোরালো বাতাস না থাকায় কুয়াশা এক জায়গায় জমাট বেঁধে ছিল। বাতাসের অভাবে সেই কুয়াশা সরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তবে রবিবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, রবিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছতে পারে। যদিও সকালে উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমাঞ্চলের পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া এবং উপকূলবর্তী সমস্ত জেলায় ঘন কুয়াশার চাদর থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দিনের তাপমাত্রা কমলেও রাতের পারদ না নামলে প্রকৃত শীতের আমেজ অনুভূত হবে না। আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনও পতনের সম্ভাবনা নেই। তবে বড়দিনের আগে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। বড়দিনের প্রাক্কালে জেলায় জেলায় রাতের পারদ ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে বলে পূর্বাভাস।



















