দিল্লি – তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে নাজেহাল উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্য। দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসায় পাঞ্জাবের হোসিয়ারপুর–দাসুয়া সড়কপথে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এই দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৩০ জন। একইসঙ্গে রাজস্থানে বাস দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে হোসিয়ারপুরে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল হাড় কাঁপানো ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সঙ্গে ছিল ঘন কুয়াশা, যার জেরে দৃশ্যমানতা প্রায় ছিল না বললেই চলে। এই কুয়াশাকেই হোসিয়ারপুর–দাসুয়া রোডের ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পাঞ্জাবের পাশাপাশি হরিয়ানাতেও চলছে শীত ও কুয়াশার দাপট। রাজধানী দিল্লিতেও কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে জনজীবন। শনিবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৌসম ভবন শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতাও জারি করেছে।
গোটা পাঞ্জাবই বর্তমানে ঠান্ডার কবলে। অমৃতসরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১.৩ ডিগ্রিতে। ভাটিন্ডা ও ফরিদকোটে ৩.২ ডিগ্রি, গুরদাসপুরে ৩.১ ডিগ্রি এবং পাটিয়ালায় ৪.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজস্থানের জয়পুর–দিল্লি হাইওয়েতে ঘন কুয়াশার কারণে একটি বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
দিল্লিতে শনিবার কিছুটা ব্যতিক্রমীভাবে বৃষ্টিও হয়েছে। যদিও এখনও রাজধানীতে চরম শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। গত বছরের ১৫ জানুয়ারিতে দিল্লির তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৩.৩ ডিগ্রিতে, সেই পরিস্থিতি আপাতত দেখা যায়নি।
তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির বায়ু দূষণ উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। সকাল ৯টা নাগাদ বাতাসের মান ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছায়। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে এদিন এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI ছিল ৩৬৬। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একাধিক বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।




















